cURL Error: 0 mediadiscourse.online https://mediadiscourse.online Tue, 17 Feb 2026 16:08:00 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0 https://mediadiscourse.online/wp-content/uploads/2026/01/mediadiscourse-favicon-150x150.png mediadiscourse.online https://mediadiscourse.online 32 32 ২০২৫ সালে বাংলাদেশ: সবচেয়ে প্রভাবশালী দশ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-7/ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-7/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:43:23 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=94 শেষ ২০২৫ সাল। সময় এসেছে বছরজুড়ে সবচেয়ে প্রভাব যারা রেখেছেন, তাদের স্মরণ করার। গত বছরের মতোই, এবারের তালিকার সবাই যে সেরা বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। কিংবা তাদের প্রভাব সবক্ষেত্রে ইতিবাচক বা ফলপ্রসূ, এমন দাবিও করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন এগোচ্ছে একটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের দিকে। এমন সময়ে যারা ২০২৫ সালকে গড়ে দিয়েছেন তাদের মধ্য দিয়েই ফিরে দেখা যাক বিদায়ী বছরটিকে।

দশ: নারী সংস্কার কমিশন ও নারী মৈত্রী যাত্রা

বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তাই আশা ছিল যে, এবার নারীরা তাদের ন্যায্য স্বীকৃতি পাবেন। কিন্তু তার বদলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিসর থেকে নারীদের সরিয়ে ফেলা ও সামাজিক পর্যায়েও তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা হতে দেখা গেল। প্রকাশ্য নারী-বিদ্বেষের জনসমুদ্রে সরকার যখন তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলো, তখন নারী সংস্কার কমিশন মর্যাদা ও ক্রোধের সঙ্গে এই অপমান সহ্য করেছে। দেশে নারীদের যে নিপীড়িত অবস্থান, তার বিপরীতে দৃঢ়তা উদযাপনের এক অভূতপূর্ব নজির রাখেন তারা। ১৬ মে নারীরা দলে দলে জড়ো হয়ে মৈত্রী যাত্রায় অংশ নেন। সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার রাজপথ শান্তিপূর্ণভাবে দখল করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপেক্ষায় শূন্য পড়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরে যখন এই সমাবেশ থিতু হয়, তখন তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়, যেন বর্তমান সরকারের মত তারা নারীদের প্রত্যাশা ভঙ্গ না করেন।

নয়: মাহেরিন চৌধুরী

“ওরাও তো আমার সন্তান। ওরা পুড়ছে। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি?” ২১ জুলাই মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর, যখন তার স্বামী তাকে সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করছিলেন, তখন মাহেরিন চৌধুরী এ কথাগুলো তাকে বলেছিলেন। বিদ্যালয়টিতে তখন আগুনে জ্বলছিল, আর সেই আগুনের দিকেই এগিয়ে গেলেন এই শিক্ষক। একাধিক প্রাণ বাঁচান তিনি। নিশ্চিত করেন মৃতদের তালিকায় তার শিক্ষার্থীদের নাম যেন আর না বাড়ে। তা করতে গিয়ে ২৩ জুলাই সেই অতিদীর্ঘ তালিকায় নিজেরও নাম লেখান মাহেরিন। শহিদগাথাকে রোমান্টিকতার মোড়কে পেঁচিয়ে রাখতে অভ্যস্ত এই দেশে, তার এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগ আমাদের মানবিকতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আট: হামজা চৌধুরী

ব্রিটিশরা পুরো বিশ্বজুড়ে লুটতরাজ চালাতে চালাতে ছড়িয়ে দিতে থাকে ফুটবল নামে খেলাটি। পরবর্তীতে দেখা গেলো, গোটা বিশ্বই তাদেরকে বলে লাথি মারার এই খেলায় দেদারসে হারাতে থাকে। যদিও তখনো তারা তাদের লুটের সম্পদ ফেরত দিতে নারাজ। তবে এবার ইংল্যান্ড যেন তাদের এক শ্রেষ্ঠ সম্পদ – এফএ কাপজয়ী, প্রিমিয়ার লিগে অভিজ্ঞ, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা এক ফুটবলারকে ফিরিয়ে দিল তার নিজের দেশে। যদি হামজা চৌধুরীকে গণ্য করা হয় ক্রীড়াজগতের পার্থেনন ভাস্কর্য হিসেবে, তবে তার সুখকর সমাপ্তির কারণ হবে যে, তিনি নিজের মাতৃভূমির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি গণমানুষের এই খেলাটিকে আবার বাংলার জনমানসে জাগিয়ে তুলেছেন এবং পুরো বিশ্বে বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।

সাত: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের পুরনো হর্তাকর্তাদের অনেকের গায়ে এখনও কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কালিমা লেগে রয়েছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সেই কালিমা মুছে ফেলতে পেরেছেন। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা না করে যোগ্য ব্যক্তিকে দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দিলে কী হতে পারে, তার উদাহরণ রেখে তিনি এমন এক অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণ করেছেন, যে সরকার নিজেই শিল্প-সংস্কৃতির ওপর হামলাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। তারই সহকর্মীরা যখন বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি তখন বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ শাসনামলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রামাণ্য তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সংরক্ষণ করেছেন।

ছয়: গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন

গত বছর তালিকার চার নম্বরে থাকা গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সদস্যরা আজও এ দেশের সবচেয়ে সাহসী মানুষদের মধ্যে কয়েকজন। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই, র‍্যাব ও পুলিশের দ্বারা সংঘটিত সবচেয়ে অমানবিক কর্মকাণ্ডগুলো নিখুঁত ও জীবন্ত বিবরণে নথিবদ্ধ করে চলেছেন। ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক বাধা ও রাজনৈতিক চাপ আসার পরেও; দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ের সদস্যরা তাদের অনুসন্ধানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া সত্ত্বেও, এই কমিটি জবাবদিহিতা আদায়ের সংগ্রাম কিছুতেই থামায়নি।

পাঁচ: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) দীর্ঘদিন ধরেই তার চিফ প্রসিকিউটরের ব্যক্তিগত জমিদারি ও রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগ আমলের ত্রুটিপূর্ণ ও ভীষণভাবে দলীয়করণের শিকার আইসিটির কড়া সমালোচনায় মুখর ছিলেন তৎকালীন আসামীপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। অথচ, ইউনুস সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কৌঁসুলি হয়ে আজ তিনি সেই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিশোধপরায়ণ দমনক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার শিখেছেন। দেশের সংস্কারহীন ও লাগামহীন এই অবস্থায়, আইসিটির যে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার বিকৃত করার গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে, সেটাই তিনি বজায় রেখে চলেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আইসিটির চোরাগলিতে তাজুল ইসলামের এই কূটচালগুলোর কারণেই আজ আওয়ামী লীগের কিছু অভিযোগ দাঁড় করানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে যেগুলোকে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়।

চার: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

শুরু থেকেই ইউনূস যে সংস্কারের কথা বলে আসছিলেন, সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গর্বিত পুরুষেরা বছরের বেশির ভাগ সময়ই হোঁচট খেতে খেতে এগিয়েছেন। লক্ষ্যসীমা, লক্ষ্য, এবং পদ-পদবি, সবই তারা বদলেছেন। অবশেষে তারা একটি আধাখেঁচড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, একটি গণভোট হবে। সেই গণভোটের প্রক্রিয়া বা তাৎপর্য অবশ্য কারোরই বোধগম্য হচ্ছে না। যেসব বিষয়ে তাদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ছিল— বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, নারী, সংখ্যালঘু, সেসব বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব ঠিক তাদের ব্যর্থতার মতই জ্বলজ্বল করে চোখে পড়ে। অবশ্য এখনো তারা দমে যাননি। সদর্পে তারা বাংলাদেশের ওপর নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার নতুন নতুন কৌশল তৈরি করে চলেছেন।

তিন: তারেক রহমান ও তার দুই সহযোদ্ধা

বাংলাদেশে তারেক রহমানের সুপরিকল্পিত, বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন বিএনপির পালে হাওয়া জুগিয়েছে তো বটেই; তবে এর প্রভাব মূলত আগের ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতাকেই অনুসরণ করে। গত বছর তালিকার সাত নম্বরে থাকা তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেবুসহ যখন লন্ডনের স্টাডি রুমের কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছিলেন, তখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মাহদি আমিন। সুসংহত থাকার বিশেষ নজির এই দলটির ইতিহাসে না থাকা সত্ত্বেও, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দলটিকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আদর্শিকভাবে শূন্যে ভাসমান দলটিকে স্পষ্টতই উদারনীতির দিকে টেনে এনেছে। ঐকমত্য আলোচনায় ও নির্বাচনের দীর্ঘ অপেক্ষায় তারা যে কৌশল ও ধৈর্য দেখিয়েছে, তাতে সম্ভাবনার আভাস আছে। পুরোনো চর্চায় ফিরে না গিয়ে সেই সম্ভাবনা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ও সুস্থ ধারার জন্ম হবে কি না।

দুই: শরিফ ওসমান হাদি

১২ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এক উদীয়মান রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী। অকালেই থেমে যায় এক সম্ভাবনাময় জীবনের স্পন্দন। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন শক্তি, উদ্দীপনা ও স্পষ্টভাষিতায় ভরপুর এক নবীন, যার ছিল মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা এবং নিজের মতাদর্শের পক্ষে লড়াই করার স্পৃহা। তার হত্যাকাণ্ড তাকে জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তাকে রক্ষা করার ব্যর্থতা ঢাকতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে শহীদ হিসেবে মহিমান্বিত করেছে। এর ফলে হাদির প্রচারিত মুসলিম জাতীয়তাবাদ আরও সংহত হয়েছে। রাজনৈতিক দক্ষিণপন্থীদের জন্য একটি পাটাতনও তৈরি হয়েছে। ভারত নিয়ে হাদির নিজস্ব সোচ্চার অবস্থান থাকায় এবং হাদির সন্দেহভাজন খুনিরা ভারতে পালিয়ে যেতে পারায় বাংলাদেশ-জুড়ে ভারতবিরোধী মনোভাব আগুনের ফুলকি থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

]]>
https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-7/feed/ 0
২০২৫ সালে বাংলাদেশ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-6/ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-6/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:43:23 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=93 শেষ ২০২৫ সাল। সময় এসেছে বছরজুড়ে সবচেয়ে প্রভাব যারা রেখেছেন, তাদের স্মরণ করার। গত বছরের মতোই, এবারের তালিকার সবাই যে সেরা বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। কিংবা তাদের প্রভাব সবক্ষেত্রে ইতিবাচক বা ফলপ্রসূ, এমন দাবিও করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন এগোচ্ছে একটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের দিকে। এমন সময়ে যারা ২০২৫ সালকে গড়ে দিয়েছেন তাদের মধ্য দিয়েই ফিরে দেখা যাক বিদায়ী বছরটিকে।

দশ: নারী সংস্কার কমিশন ও নারী মৈত্রী যাত্রা

বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তাই আশা ছিল যে, এবার নারীরা তাদের ন্যায্য স্বীকৃতি পাবেন। কিন্তু তার বদলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিসর থেকে নারীদের সরিয়ে ফেলা ও সামাজিক পর্যায়েও তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা হতে দেখা গেল। প্রকাশ্য নারী-বিদ্বেষের জনসমুদ্রে সরকার যখন তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলো, তখন নারী সংস্কার কমিশন মর্যাদা ও ক্রোধের সঙ্গে এই অপমান সহ্য করেছে। দেশে নারীদের যে নিপীড়িত অবস্থান, তার বিপরীতে দৃঢ়তা উদযাপনের এক অভূতপূর্ব নজির রাখেন তারা। ১৬ মে নারীরা দলে দলে জড়ো হয়ে মৈত্রী যাত্রায় অংশ নেন। সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার রাজপথ শান্তিপূর্ণভাবে দখল করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপেক্ষায় শূন্য পড়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরে যখন এই সমাবেশ থিতু হয়, তখন তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়, যেন বর্তমান সরকারের মত তারা নারীদের প্রত্যাশা ভঙ্গ না করেন।

নয়: মাহেরিন চৌধুরী

“ওরাও তো আমার সন্তান। ওরা পুড়ছে। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি?” ২১ জুলাই মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর, যখন তার স্বামী তাকে সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করছিলেন, তখন মাহেরিন চৌধুরী এ কথাগুলো তাকে বলেছিলেন। বিদ্যালয়টিতে তখন আগুনে জ্বলছিল, আর সেই আগুনের দিকেই এগিয়ে গেলেন এই শিক্ষক। একাধিক প্রাণ বাঁচান তিনি। নিশ্চিত করেন মৃতদের তালিকায় তার শিক্ষার্থীদের নাম যেন আর না বাড়ে। তা করতে গিয়ে ২৩ জুলাই সেই অতিদীর্ঘ তালিকায় নিজেরও নাম লেখান মাহেরিন। শহিদগাথাকে রোমান্টিকতার মোড়কে পেঁচিয়ে রাখতে অভ্যস্ত এই দেশে, তার এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগ আমাদের মানবিকতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আট: হামজা চৌধুরী

ব্রিটিশরা পুরো বিশ্বজুড়ে লুটতরাজ চালাতে চালাতে ছড়িয়ে দিতে থাকে ফুটবল নামে খেলাটি। পরবর্তীতে দেখা গেলো, গোটা বিশ্বই তাদেরকে বলে লাথি মারার এই খেলায় দেদারসে হারাতে থাকে। যদিও তখনো তারা তাদের লুটের সম্পদ ফেরত দিতে নারাজ। তবে এবার ইংল্যান্ড যেন তাদের এক শ্রেষ্ঠ সম্পদ – এফএ কাপজয়ী, প্রিমিয়ার লিগে অভিজ্ঞ, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা এক ফুটবলারকে ফিরিয়ে দিল তার নিজের দেশে। যদি হামজা চৌধুরীকে গণ্য করা হয় ক্রীড়াজগতের পার্থেনন ভাস্কর্য হিসেবে, তবে তার সুখকর সমাপ্তির কারণ হবে যে, তিনি নিজের মাতৃভূমির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি গণমানুষের এই খেলাটিকে আবার বাংলার জনমানসে জাগিয়ে তুলেছেন এবং পুরো বিশ্বে বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।

সাত: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের পুরনো হর্তাকর্তাদের অনেকের গায়ে এখনও কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কালিমা লেগে রয়েছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সেই কালিমা মুছে ফেলতে পেরেছেন। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা না করে যোগ্য ব্যক্তিকে দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দিলে কী হতে পারে, তার উদাহরণ রেখে তিনি এমন এক অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণ করেছেন, যে সরকার নিজেই শিল্প-সংস্কৃতির ওপর হামলাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। তারই সহকর্মীরা যখন বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি তখন বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ শাসনামলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রামাণ্য তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সংরক্ষণ করেছেন।

ছয়: গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন

গত বছর তালিকার চার নম্বরে থাকা গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সদস্যরা আজও এ দেশের সবচেয়ে সাহসী মানুষদের মধ্যে কয়েকজন। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই, র‍্যাব ও পুলিশের দ্বারা সংঘটিত সবচেয়ে অমানবিক কর্মকাণ্ডগুলো নিখুঁত ও জীবন্ত বিবরণে নথিবদ্ধ করে চলেছেন। ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক বাধা ও রাজনৈতিক চাপ আসার পরেও; দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ের সদস্যরা তাদের অনুসন্ধানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া সত্ত্বেও, এই কমিটি জবাবদিহিতা আদায়ের সংগ্রাম কিছুতেই থামায়নি।

পাঁচ: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) দীর্ঘদিন ধরেই তার চিফ প্রসিকিউটরের ব্যক্তিগত জমিদারি ও রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগ আমলের ত্রুটিপূর্ণ ও ভীষণভাবে দলীয়করণের শিকার আইসিটির কড়া সমালোচনায় মুখর ছিলেন তৎকালীন আসামীপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। অথচ, ইউনুস সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কৌঁসুলি হয়ে আজ তিনি সেই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিশোধপরায়ণ দমনক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার শিখেছেন। দেশের সংস্কারহীন ও লাগামহীন এই অবস্থায়, আইসিটির যে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার বিকৃত করার গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে, সেটাই তিনি বজায় রেখে চলেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আইসিটির চোরাগলিতে তাজুল ইসলামের এই কূটচালগুলোর কারণেই আজ আওয়ামী লীগের কিছু অভিযোগ দাঁড় করানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে যেগুলোকে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়।

চার: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

শুরু থেকেই ইউনূস যে সংস্কারের কথা বলে আসছিলেন, সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গর্বিত পুরুষেরা বছরের বেশির ভাগ সময়ই হোঁচট খেতে খেতে এগিয়েছেন। লক্ষ্যসীমা, লক্ষ্য, এবং পদ-পদবি, সবই তারা বদলেছেন। অবশেষে তারা একটি আধাখেঁচড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, একটি গণভোট হবে। সেই গণভোটের প্রক্রিয়া বা তাৎপর্য অবশ্য কারোরই বোধগম্য হচ্ছে না। যেসব বিষয়ে তাদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ছিল— বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, নারী, সংখ্যালঘু, সেসব বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব ঠিক তাদের ব্যর্থতার মতই জ্বলজ্বল করে চোখে পড়ে। অবশ্য এখনো তারা দমে যাননি। সদর্পে তারা বাংলাদেশের ওপর নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার নতুন নতুন কৌশল তৈরি করে চলেছেন।

তিন: তারেক রহমান ও তার দুই সহযোদ্ধা

বাংলাদেশে তারেক রহমানের সুপরিকল্পিত, বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন বিএনপির পালে হাওয়া জুগিয়েছে তো বটেই; তবে এর প্রভাব মূলত আগের ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতাকেই অনুসরণ করে। গত বছর তালিকার সাত নম্বরে থাকা তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেবুসহ যখন লন্ডনের স্টাডি রুমের কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছিলেন, তখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মাহদি আমিন। সুসংহত থাকার বিশেষ নজির এই দলটির ইতিহাসে না থাকা সত্ত্বেও, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দলটিকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আদর্শিকভাবে শূন্যে ভাসমান দলটিকে স্পষ্টতই উদারনীতির দিকে টেনে এনেছে। ঐকমত্য আলোচনায় ও নির্বাচনের দীর্ঘ অপেক্ষায় তারা যে কৌশল ও ধৈর্য দেখিয়েছে, তাতে সম্ভাবনার আভাস আছে। পুরোনো চর্চায় ফিরে না গিয়ে সেই সম্ভাবনা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ও সুস্থ ধারার জন্ম হবে কি না।

দুই: শরিফ ওসমান হাদি

১২ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এক উদীয়মান রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী। অকালেই থেমে যায় এক সম্ভাবনাময় জীবনের স্পন্দন। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন শক্তি, উদ্দীপনা ও স্পষ্টভাষিতায় ভরপুর এক নবীন, যার ছিল মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা এবং নিজের মতাদর্শের পক্ষে লড়াই করার স্পৃহা। তার হত্যাকাণ্ড তাকে জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তাকে রক্ষা করার ব্যর্থতা ঢাকতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে শহীদ হিসেবে মহিমান্বিত করেছে। এর ফলে হাদির প্রচারিত মুসলিম জাতীয়তাবাদ আরও সংহত হয়েছে। রাজনৈতিক দক্ষিণপন্থীদের জন্য একটি পাটাতনও তৈরি হয়েছে। ভারত নিয়ে হাদির নিজস্ব সোচ্চার অবস্থান থাকায় এবং হাদির সন্দেহভাজন খুনিরা ভারতে পালিয়ে যেতে পারায় বাংলাদেশ-জুড়ে ভারতবিরোধী মনোভাব আগুনের ফুলকি থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

]]>
https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-6/feed/ 0
২০২৫ সালে বাংলাদেশ: সবচেয়ে প্রভাবশালী দশ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-5/ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-5/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:43:23 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=92 শেষ ২০২৫ সাল। সময় এসেছে বছরজুড়ে সবচেয়ে প্রভাব যারা রেখেছেন, তাদের স্মরণ করার। গত বছরের মতোই, এবারের তালিকার সবাই যে সেরা বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। কিংবা তাদের প্রভাব সবক্ষেত্রে ইতিবাচক বা ফলপ্রসূ, এমন দাবিও করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন এগোচ্ছে একটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের দিকে। এমন সময়ে যারা ২০২৫ সালকে গড়ে দিয়েছেন তাদের মধ্য দিয়েই ফিরে দেখা যাক বিদায়ী বছরটিকে।

দশ: নারী সংস্কার কমিশন ও নারী মৈত্রী যাত্রা

বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তাই আশা ছিল যে, এবার নারীরা তাদের ন্যায্য স্বীকৃতি পাবেন। কিন্তু তার বদলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিসর থেকে নারীদের সরিয়ে ফেলা ও সামাজিক পর্যায়েও তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা হতে দেখা গেল। প্রকাশ্য নারী-বিদ্বেষের জনসমুদ্রে সরকার যখন তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলো, তখন নারী সংস্কার কমিশন মর্যাদা ও ক্রোধের সঙ্গে এই অপমান সহ্য করেছে। দেশে নারীদের যে নিপীড়িত অবস্থান, তার বিপরীতে দৃঢ়তা উদযাপনের এক অভূতপূর্ব নজির রাখেন তারা। ১৬ মে নারীরা দলে দলে জড়ো হয়ে মৈত্রী যাত্রায় অংশ নেন। সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার রাজপথ শান্তিপূর্ণভাবে দখল করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপেক্ষায় শূন্য পড়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরে যখন এই সমাবেশ থিতু হয়, তখন তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়, যেন বর্তমান সরকারের মত তারা নারীদের প্রত্যাশা ভঙ্গ না করেন।

নয়: মাহেরিন চৌধুরী

“ওরাও তো আমার সন্তান। ওরা পুড়ছে। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি?” ২১ জুলাই মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর, যখন তার স্বামী তাকে সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করছিলেন, তখন মাহেরিন চৌধুরী এ কথাগুলো তাকে বলেছিলেন। বিদ্যালয়টিতে তখন আগুনে জ্বলছিল, আর সেই আগুনের দিকেই এগিয়ে গেলেন এই শিক্ষক। একাধিক প্রাণ বাঁচান তিনি। নিশ্চিত করেন মৃতদের তালিকায় তার শিক্ষার্থীদের নাম যেন আর না বাড়ে। তা করতে গিয়ে ২৩ জুলাই সেই অতিদীর্ঘ তালিকায় নিজেরও নাম লেখান মাহেরিন। শহিদগাথাকে রোমান্টিকতার মোড়কে পেঁচিয়ে রাখতে অভ্যস্ত এই দেশে, তার এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগ আমাদের মানবিকতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আট: হামজা চৌধুরী

ব্রিটিশরা পুরো বিশ্বজুড়ে লুটতরাজ চালাতে চালাতে ছড়িয়ে দিতে থাকে ফুটবল নামে খেলাটি। পরবর্তীতে দেখা গেলো, গোটা বিশ্বই তাদেরকে বলে লাথি মারার এই খেলায় দেদারসে হারাতে থাকে। যদিও তখনো তারা তাদের লুটের সম্পদ ফেরত দিতে নারাজ। তবে এবার ইংল্যান্ড যেন তাদের এক শ্রেষ্ঠ সম্পদ – এফএ কাপজয়ী, প্রিমিয়ার লিগে অভিজ্ঞ, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা এক ফুটবলারকে ফিরিয়ে দিল তার নিজের দেশে। যদি হামজা চৌধুরীকে গণ্য করা হয় ক্রীড়াজগতের পার্থেনন ভাস্কর্য হিসেবে, তবে তার সুখকর সমাপ্তির কারণ হবে যে, তিনি নিজের মাতৃভূমির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি গণমানুষের এই খেলাটিকে আবার বাংলার জনমানসে জাগিয়ে তুলেছেন এবং পুরো বিশ্বে বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।

সাত: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের পুরনো হর্তাকর্তাদের অনেকের গায়ে এখনও কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কালিমা লেগে রয়েছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সেই কালিমা মুছে ফেলতে পেরেছেন। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা না করে যোগ্য ব্যক্তিকে দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দিলে কী হতে পারে, তার উদাহরণ রেখে তিনি এমন এক অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণ করেছেন, যে সরকার নিজেই শিল্প-সংস্কৃতির ওপর হামলাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। তারই সহকর্মীরা যখন বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি তখন বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ শাসনামলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রামাণ্য তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সংরক্ষণ করেছেন।

ছয়: গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন

গত বছর তালিকার চার নম্বরে থাকা গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সদস্যরা আজও এ দেশের সবচেয়ে সাহসী মানুষদের মধ্যে কয়েকজন। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই, র‍্যাব ও পুলিশের দ্বারা সংঘটিত সবচেয়ে অমানবিক কর্মকাণ্ডগুলো নিখুঁত ও জীবন্ত বিবরণে নথিবদ্ধ করে চলেছেন। ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক বাধা ও রাজনৈতিক চাপ আসার পরেও; দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ের সদস্যরা তাদের অনুসন্ধানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া সত্ত্বেও, এই কমিটি জবাবদিহিতা আদায়ের সংগ্রাম কিছুতেই থামায়নি।

পাঁচ: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) দীর্ঘদিন ধরেই তার চিফ প্রসিকিউটরের ব্যক্তিগত জমিদারি ও রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগ আমলের ত্রুটিপূর্ণ ও ভীষণভাবে দলীয়করণের শিকার আইসিটির কড়া সমালোচনায় মুখর ছিলেন তৎকালীন আসামীপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। অথচ, ইউনুস সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কৌঁসুলি হয়ে আজ তিনি সেই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিশোধপরায়ণ দমনক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার শিখেছেন। দেশের সংস্কারহীন ও লাগামহীন এই অবস্থায়, আইসিটির যে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার বিকৃত করার গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে, সেটাই তিনি বজায় রেখে চলেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আইসিটির চোরাগলিতে তাজুল ইসলামের এই কূটচালগুলোর কারণেই আজ আওয়ামী লীগের কিছু অভিযোগ দাঁড় করানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে যেগুলোকে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়।

চার: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

শুরু থেকেই ইউনূস যে সংস্কারের কথা বলে আসছিলেন, সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গর্বিত পুরুষেরা বছরের বেশির ভাগ সময়ই হোঁচট খেতে খেতে এগিয়েছেন। লক্ষ্যসীমা, লক্ষ্য, এবং পদ-পদবি, সবই তারা বদলেছেন। অবশেষে তারা একটি আধাখেঁচড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, একটি গণভোট হবে। সেই গণভোটের প্রক্রিয়া বা তাৎপর্য অবশ্য কারোরই বোধগম্য হচ্ছে না। যেসব বিষয়ে তাদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ছিল— বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, নারী, সংখ্যালঘু, সেসব বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব ঠিক তাদের ব্যর্থতার মতই জ্বলজ্বল করে চোখে পড়ে। অবশ্য এখনো তারা দমে যাননি। সদর্পে তারা বাংলাদেশের ওপর নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার নতুন নতুন কৌশল তৈরি করে চলেছেন।

তিন: তারেক রহমান ও তার দুই সহযোদ্ধা

বাংলাদেশে তারেক রহমানের সুপরিকল্পিত, বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন বিএনপির পালে হাওয়া জুগিয়েছে তো বটেই; তবে এর প্রভাব মূলত আগের ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতাকেই অনুসরণ করে। গত বছর তালিকার সাত নম্বরে থাকা তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেবুসহ যখন লন্ডনের স্টাডি রুমের কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছিলেন, তখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মাহদি আমিন। সুসংহত থাকার বিশেষ নজির এই দলটির ইতিহাসে না থাকা সত্ত্বেও, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দলটিকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আদর্শিকভাবে শূন্যে ভাসমান দলটিকে স্পষ্টতই উদারনীতির দিকে টেনে এনেছে। ঐকমত্য আলোচনায় ও নির্বাচনের দীর্ঘ অপেক্ষায় তারা যে কৌশল ও ধৈর্য দেখিয়েছে, তাতে সম্ভাবনার আভাস আছে। পুরোনো চর্চায় ফিরে না গিয়ে সেই সম্ভাবনা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ও সুস্থ ধারার জন্ম হবে কি না।

দুই: শরিফ ওসমান হাদি

১২ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এক উদীয়মান রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী। অকালেই থেমে যায় এক সম্ভাবনাময় জীবনের স্পন্দন। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন শক্তি, উদ্দীপনা ও স্পষ্টভাষিতায় ভরপুর এক নবীন, যার ছিল মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা এবং নিজের মতাদর্শের পক্ষে লড়াই করার স্পৃহা। তার হত্যাকাণ্ড তাকে জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তাকে রক্ষা করার ব্যর্থতা ঢাকতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে শহীদ হিসেবে মহিমান্বিত করেছে। এর ফলে হাদির প্রচারিত মুসলিম জাতীয়তাবাদ আরও সংহত হয়েছে। রাজনৈতিক দক্ষিণপন্থীদের জন্য একটি পাটাতনও তৈরি হয়েছে। ভারত নিয়ে হাদির নিজস্ব সোচ্চার অবস্থান থাকায় এবং হাদির সন্দেহভাজন খুনিরা ভারতে পালিয়ে যেতে পারায় বাংলাদেশ-জুড়ে ভারতবিরোধী মনোভাব আগুনের ফুলকি থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

]]>
https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-5/feed/ 0
২০২৫ সালে বাংলাদেশ: সবচেয়ে প্রভাবশালী দশ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-2/ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-2/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:41:41 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=80 শেষ ২০২৫ সাল। সময় এসেছে বছরজুড়ে সবচেয়ে প্রভাব যারা রেখেছেন, তাদের স্মরণ করার। গত বছরের মতোই, এবারের তালিকার সবাই যে সেরা বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। কিংবা তাদের প্রভাব সবক্ষেত্রে ইতিবাচক বা ফলপ্রসূ, এমন দাবিও করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন এগোচ্ছে একটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের দিকে। এমন সময়ে যারা ২০২৫ সালকে গড়ে দিয়েছেন তাদের মধ্য দিয়েই ফিরে দেখা যাক বিদায়ী বছরটিকে।

দশ: নারী সংস্কার কমিশন ও নারী মৈত্রী যাত্রা

বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তাই আশা ছিল যে, এবার নারীরা তাদের ন্যায্য স্বীকৃতি পাবেন। কিন্তু তার বদলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিসর থেকে নারীদের সরিয়ে ফেলা ও সামাজিক পর্যায়েও তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা হতে দেখা গেল। প্রকাশ্য নারী-বিদ্বেষের জনসমুদ্রে সরকার যখন তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলো, তখন নারী সংস্কার কমিশন মর্যাদা ও ক্রোধের সঙ্গে এই অপমান সহ্য করেছে। দেশে নারীদের যে নিপীড়িত অবস্থান, তার বিপরীতে দৃঢ়তা উদযাপনের এক অভূতপূর্ব নজির রাখেন তারা। ১৬ মে নারীরা দলে দলে জড়ো হয়ে মৈত্রী যাত্রায় অংশ নেন। সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার রাজপথ শান্তিপূর্ণভাবে দখল করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপেক্ষায় শূন্য পড়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরে যখন এই সমাবেশ থিতু হয়, তখন তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়, যেন বর্তমান সরকারের মত তারা নারীদের প্রত্যাশা ভঙ্গ না করেন।

নয়: মাহেরিন চৌধুরী

“ওরাও তো আমার সন্তান। ওরা পুড়ছে। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি?” ২১ জুলাই মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর, যখন তার স্বামী তাকে সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করছিলেন, তখন মাহেরিন চৌধুরী এ কথাগুলো তাকে বলেছিলেন। বিদ্যালয়টিতে তখন আগুনে জ্বলছিল, আর সেই আগুনের দিকেই এগিয়ে গেলেন এই শিক্ষক। একাধিক প্রাণ বাঁচান তিনি। নিশ্চিত করেন মৃতদের তালিকায় তার শিক্ষার্থীদের নাম যেন আর না বাড়ে। তা করতে গিয়ে ২৩ জুলাই সেই অতিদীর্ঘ তালিকায় নিজেরও নাম লেখান মাহেরিন। শহিদগাথাকে রোমান্টিকতার মোড়কে পেঁচিয়ে রাখতে অভ্যস্ত এই দেশে, তার এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগ আমাদের মানবিকতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আট: হামজা চৌধুরী

ব্রিটিশরা পুরো বিশ্বজুড়ে লুটতরাজ চালাতে চালাতে ছড়িয়ে দিতে থাকে ফুটবল নামে খেলাটি। পরবর্তীতে দেখা গেলো, গোটা বিশ্বই তাদেরকে বলে লাথি মারার এই খেলায় দেদারসে হারাতে থাকে। যদিও তখনো তারা তাদের লুটের সম্পদ ফেরত দিতে নারাজ। তবে এবার ইংল্যান্ড যেন তাদের এক শ্রেষ্ঠ সম্পদ – এফএ কাপজয়ী, প্রিমিয়ার লিগে অভিজ্ঞ, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা এক ফুটবলারকে ফিরিয়ে দিল তার নিজের দেশে। যদি হামজা চৌধুরীকে গণ্য করা হয় ক্রীড়াজগতের পার্থেনন ভাস্কর্য হিসেবে, তবে তার সুখকর সমাপ্তির কারণ হবে যে, তিনি নিজের মাতৃভূমির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি গণমানুষের এই খেলাটিকে আবার বাংলার জনমানসে জাগিয়ে তুলেছেন এবং পুরো বিশ্বে বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।

সাত: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের পুরনো হর্তাকর্তাদের অনেকের গায়ে এখনও কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কালিমা লেগে রয়েছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সেই কালিমা মুছে ফেলতে পেরেছেন। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা না করে যোগ্য ব্যক্তিকে দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দিলে কী হতে পারে, তার উদাহরণ রেখে তিনি এমন এক অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণ করেছেন, যে সরকার নিজেই শিল্প-সংস্কৃতির ওপর হামলাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। তারই সহকর্মীরা যখন বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি তখন বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ শাসনামলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রামাণ্য তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সংরক্ষণ করেছেন।

ছয়: গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন

গত বছর তালিকার চার নম্বরে থাকা গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সদস্যরা আজও এ দেশের সবচেয়ে সাহসী মানুষদের মধ্যে কয়েকজন। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই, র‍্যাব ও পুলিশের দ্বারা সংঘটিত সবচেয়ে অমানবিক কর্মকাণ্ডগুলো নিখুঁত ও জীবন্ত বিবরণে নথিবদ্ধ করে চলেছেন। ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক বাধা ও রাজনৈতিক চাপ আসার পরেও; দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ের সদস্যরা তাদের অনুসন্ধানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া সত্ত্বেও, এই কমিটি জবাবদিহিতা আদায়ের সংগ্রাম কিছুতেই থামায়নি।

পাঁচ: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) দীর্ঘদিন ধরেই তার চিফ প্রসিকিউটরের ব্যক্তিগত জমিদারি ও রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগ আমলের ত্রুটিপূর্ণ ও ভীষণভাবে দলীয়করণের শিকার আইসিটির কড়া সমালোচনায় মুখর ছিলেন তৎকালীন আসামীপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। অথচ, ইউনুস সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কৌঁসুলি হয়ে আজ তিনি সেই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিশোধপরায়ণ দমনক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার শিখেছেন। দেশের সংস্কারহীন ও লাগামহীন এই অবস্থায়, আইসিটির যে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার বিকৃত করার গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে, সেটাই তিনি বজায় রেখে চলেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আইসিটির চোরাগলিতে তাজুল ইসলামের এই কূটচালগুলোর কারণেই আজ আওয়ামী লীগের কিছু অভিযোগ দাঁড় করানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে যেগুলোকে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়।

চার: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

শুরু থেকেই ইউনূস যে সংস্কারের কথা বলে আসছিলেন, সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গর্বিত পুরুষেরা বছরের বেশির ভাগ সময়ই হোঁচট খেতে খেতে এগিয়েছেন। লক্ষ্যসীমা, লক্ষ্য, এবং পদ-পদবি, সবই তারা বদলেছেন। অবশেষে তারা একটি আধাখেঁচড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, একটি গণভোট হবে। সেই গণভোটের প্রক্রিয়া বা তাৎপর্য অবশ্য কারোরই বোধগম্য হচ্ছে না। যেসব বিষয়ে তাদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ছিল— বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, নারী, সংখ্যালঘু, সেসব বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব ঠিক তাদের ব্যর্থতার মতই জ্বলজ্বল করে চোখে পড়ে। অবশ্য এখনো তারা দমে যাননি। সদর্পে তারা বাংলাদেশের ওপর নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার নতুন নতুন কৌশল তৈরি করে চলেছেন।

তিন: তারেক রহমান ও তার দুই সহযোদ্ধা

বাংলাদেশে তারেক রহমানের সুপরিকল্পিত, বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন বিএনপির পালে হাওয়া জুগিয়েছে তো বটেই; তবে এর প্রভাব মূলত আগের ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতাকেই অনুসরণ করে। গত বছর তালিকার সাত নম্বরে থাকা তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেবুসহ যখন লন্ডনের স্টাডি রুমের কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছিলেন, তখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মাহদি আমিন। সুসংহত থাকার বিশেষ নজির এই দলটির ইতিহাসে না থাকা সত্ত্বেও, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দলটিকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আদর্শিকভাবে শূন্যে ভাসমান দলটিকে স্পষ্টতই উদারনীতির দিকে টেনে এনেছে। ঐকমত্য আলোচনায় ও নির্বাচনের দীর্ঘ অপেক্ষায় তারা যে কৌশল ও ধৈর্য দেখিয়েছে, তাতে সম্ভাবনার আভাস আছে। পুরোনো চর্চায় ফিরে না গিয়ে সেই সম্ভাবনা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ও সুস্থ ধারার জন্ম হবে কি না।

দুই: শরিফ ওসমান হাদি

১২ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এক উদীয়মান রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী। অকালেই থেমে যায় এক সম্ভাবনাময় জীবনের স্পন্দন। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন শক্তি, উদ্দীপনা ও স্পষ্টভাষিতায় ভরপুর এক নবীন, যার ছিল মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা এবং নিজের মতাদর্শের পক্ষে লড়াই করার স্পৃহা। তার হত্যাকাণ্ড তাকে জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তাকে রক্ষা করার ব্যর্থতা ঢাকতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে শহীদ হিসেবে মহিমান্বিত করেছে। এর ফলে হাদির প্রচারিত মুসলিম জাতীয়তাবাদ আরও সংহত হয়েছে। রাজনৈতিক দক্ষিণপন্থীদের জন্য একটি পাটাতনও তৈরি হয়েছে। ভারত নিয়ে হাদির নিজস্ব সোচ্চার অবস্থান থাকায় এবং হাদির সন্দেহভাজন খুনিরা ভারতে পালিয়ে যেতে পারায় বাংলাদেশ-জুড়ে ভারতবিরোধী মনোভাব আগুনের ফুলকি থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

]]>
https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-2/feed/ 0
On the cricket field, Bangladesh and India’s ‘war minus the shooting’ https://mediadiscourse.online/on-the-cricket-field-bangladesh-and-indias-war-minus-the-shooting-2/ https://mediadiscourse.online/on-the-cricket-field-bangladesh-and-indias-war-minus-the-shooting-2/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:41:41 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=79 There are many false aphorisms in circulation around the world. But one of them is so untrue that it borders on the ridiculous. It goes like this: don’t mix politics with sport. Those who believe this strange, sanitised idea of “depoliticisation” conveniently forget one basic truth: international sport is politics. Not just politics, some would argue, but the modern substitute for war itself. For thousands of years, nations fought to conquer territory and assert superiority. Today, that same instinct is merely restrained and redirected onto the playing field. The hunter’s urge to annihilate the opponent has not disappeared; it has been domesticated. In an age where outright war is less frequent, states compensate through sport.

That is why George Orwell famously described international sport as “war minus the shooting”. Borrowing that phrase, American sportswriter Mike Marqusee wrote an entire book under the same title, examining how the 1996 Cricket World Cup in the Indian subcontinent was shaped by politics, diplomacy, and power — and how it, in turn, reshaped politics across South Asia and the wider cricketing world.

Exactly thirty years later, on the eve of yet another World Cup in South Asia, cricket diplomacy is once again heating up. This time, the flashpoint is between two neighbours: Bangladesh and India. Like Marqusee once did, we can use this moment to look beyond cricket — at regional power, bilateral relations, and the larger political currents shaping both countries.

The immediate trigger was Bangladeshi cricketer Mustafizur Rahman. Despite being bought by Kolkata Knight Riders (KKR) for over nine crore rupees, the franchise was forced to release him for safety following intervention by the Indian cricket board. The explanation offered was blunt: under the current circumstances, Mustafizur could not be allowed to play. The real reason soon became clear. A senior leader from India’s ruling Hindu nationalist BJP had openly threatened action against KKR if Mustafizur played in the Indian Premier League. He went further, branding KKR’s owner, Bollywood superstar Shah Rukh Khan, a “traitor” and even threatening to expel him from the country.

That detail matters. Shah Rukh Khan, despite being India’s biggest star, is Muslim. So is Mustafizur. Under BJP rule, India has seen people lynched over something as trivial as allegedly storing beef in a fridge, and many Muslims beaten to death on mere suspicion of being Bangladeshi. Non-Hindus live under constant insecurity. A toxic mix of communal hatred and vigilante violence has become routine.

Yet the same BJP now claims that, following the fall of Sheikh Hasina’s long authoritarian rule in 2024, Bangladesh has become a site of systematic persecution of Hindus. Indian media outlets have gone into overdrive, spreading outright misinformation and alleging genocide. Much like Pakistan, Bangladesh is being cast as a hostile “other”, a convenient external enemy to fuel domestic Hindu nationalist sentiment.

It would be dishonest to deny that Bangladesh has been unstable for the past year and a half. An ineffectual interim government has failed to prevent mob attacks, including the destruction of shrines. Some non-Muslims have indeed been targeted due to political vendettas or property disputes. But this is not remotely comparable to the state-sponsored, industrial-scale production of communal hatred seen in India today.

Still, the BJP government — which itself shelters the deposed autocrat Sheikh Hasina — appears determined to inflame tensions. Visas for Bangladeshis were tightened immediately after her fall. Diplomatic engagement has cooled. Under Modi, India’s relations with almost every South Asian neighbour — bar the Taliban — have deteriorated. In cricket too, India behaves like an unchallenged hegemon. As the biggest financial contributor to the sport, it acts with impunity. That mix of money, arrogance, and aggressive diplomacy now dictates the politics of global cricket.

The Mustafizur episode fits squarely into this pattern. What India failed to anticipate was retaliation. For Bangladesh, this incident came just weeks before India is due to host the T20 World Cup. Dhaka asked a simple, devastating question: if India cannot guarantee the safety of one Bangladeshi cricketer, how can it ensure the security of an entire team — not to mention journalists and thousands of travelling fans? Bangladesh pointed out that special arrangements had once been made for Pakistan in Sri Lanka. Either the same guarantees would apply — or Bangladesh would not play.

Such standoffs are not unprecedented. Australia and the West Indies refused to play in Sri Lanka in 1996. England skipped Zimbabwe in 2003; New Zealand avoided Kenya. Zimbabwe withdrew from the 2009 T20 World Cup. Australia refused to send its Under-19 team to Bangladesh in 2016 — even though its football team had visited shortly before. The contrast revealed the difference between FIFA and the ICC: corrupt as FIFA may be, it can still take firm positions. The ICC, by contrast, is largely spineless. Its “big three” model consistently privileges India, England, and Australia. Pakistan is shunted into absurd hybrid tournaments at India’s insistence and it was still forced to play the 2023 World Cup in India.

What makes this time different is that the Indian government visibly folded before extremist threats. In the early 1990s, Shiv Sena goons vandalised pitches ahead of Pakistan tours. India itself has received threats abroad. Such noise is not new. What is new is the state’s willingness to concede. That sends a dangerous signal — and leaves Bangladesh no room to take risks.

India likely assumed Bangladesh would never boycott a World Cup. Had it foreseen this response, the Mustafizur issue might have been deferred until after the tournament. The IPL, after all, begins later. But politics is rarely that simple. Assembly elections are approaching in West Bengal. For the BJP, long absent from power there, anti-Bangladesh rhetoric combined with cricket and religion is an irresistible electoral weapon.

]]>
https://mediadiscourse.online/on-the-cricket-field-bangladesh-and-indias-war-minus-the-shooting-2/feed/ 0
Why is country music booming in Brazil? https://mediadiscourse.online/why-is-country-music-booming-in-brazil-2/ https://mediadiscourse.online/why-is-country-music-booming-in-brazil-2/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:41:41 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=78 Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!The band was still tuning up when the first screams pealed through the crowded fairgrounds in Cuiabá, a regional capital in Brazil’s farm belt. A few feet from the stage, a 10-year-old girl in a spangled black cowboy hat, sequined jeans, and embroidered leather boots added hers to the mix, her cheeks wet with happy tears. Her eyes were locked on Ana Castela, the reigning star of Brazilian country music, as she owned the main stage at the Expoagro. “She is incredible, wonderful,” the young girl gushed afterward. “She’s perfect.”

Castela, a 22-year-old velvet-voiced pop diva with a Latin Grammy in her saddlebag and 15.4 million monthly listeners on Spotify, is the latest idol from Brazil’s homegrown style of music called sertanejo. The folk music began in the sertão,the country’s hardscrabble backlands, but has since modernized, electrified, and taken over the charts with everything from torch songs to subgenres like agronejo, with its odes to Big Agriculture. (As one hit song’s lyrics go: Hey, hey, hey, spraying poison from the plane.) Today the most popular sound in Brazilian music exalts a saddles-and-pickups spirit buoyed by the conversion of forests, prairies, and savannas into commodity crops, livestock ranches, and a trade surplus.

Twin-sister sertanejo duo Maiara & Maraisa (first image) was just one of the genre’s iconic acts headlining the fair across its 10 days. Fans, including Emilly Narciso Rodrigues (last image), came decked out.

“Half of the music consumed in Brazil today is sertanejo. The other half is everything else,” said former president of Sony Music Brasil Paulo Junqueiro, who helped oversee the explosion of country music. “So we are talking about a genre that represents half the output of all new artists.” No rodeo or farm expo (and there are hundreds across Brazil every year) is complete without a lineup of sertanejo artists crooning to stadium-size crowds.

]]>
https://mediadiscourse.online/why-is-country-music-booming-in-brazil-2/feed/ 0
যেভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে বৈধতা উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে বিবিসি বাংলা https://mediadiscourse.online/2025-bangladesh/ https://mediadiscourse.online/2025-bangladesh/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:41:41 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=77 ২৪ জানুয়ারি ২০২৬–এর বিবিসি বাংলার এই দুইটি প্রতিবেদন একসাথে পড়লে একটি বড় ডিসকোর্স–চিত্র স্পষ্ট হয়। টেক্সট দুটির ভাষা, কাঠামো, উৎস–চয়ন, প্রশ্ন–পদ্ধতি, এবং তথ্য সাজানোর ধরন এমনভাবে কাজ করে যে, নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে “অপরিহার্য” ও “বৈধ” এক পক্ষ হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়। এখানে আমি “বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে দলীয় এজেন্ডা চালায়”—এমন উদ্দেশ্য–অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে ধরছি না। আমি দেখাচ্ছি, টেক্সটের ভেতরে কোন কোন ভাষিক কৌশল কাজ করছে। আর সেই কৌশলগুলোর ফল কী দাঁড়াচ্ছে। এটিই ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্স অ্যানালিসিস (CDA)–এর মূল কাজ। CDA মনে করে সংবাদ–ভাষা শুধু ঘটনা বলে না। সংবাদ–ভাষা ঘটনা “কীভাবে বুঝতে হবে”—সেটাও শিখিয়ে দেয়। কারা বৈধ actor, কোন সমস্যাকে বড় করা হবে, কোন সমাধান “যৌক্তিক” শোনাবে—এসবও সংবাদ নির্মাণ করে।

প্রথম প্রতিবেদনটির শিরোনামই একটি শক্ত ফ্রেম তৈরি করে। “দিল্লিতে আবারও প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা”—এখানে “আবারও” শব্দটি পুনরাগমনের ইঙ্গিত দেয়। “প্রকাশ্যে” শব্দটি নরমালাইজিং কাজ করে। যেন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রকাশ্যে আসা স্বাভাবিক রাজনৈতিক ঘটনাই। এরপর শিরোনামেই “বাজানো হলো শেখ হাসিনার অডিও বার্তা” বলা হয়। অর্থাৎ টেক্সটের কেন্দ্রবিন্দুতে শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতাচ্যুত। তবুও ন্যারেটিভ–ফোকাস তার দিকে। এতে পাঠকের মনে তিনি “পেছনের চরিত্র” নন। বরং তিনি “এখনও দৃশ্যপটে থাকা” প্রধান রাজনৈতিক চরিত্র।

প্রতিবেদনটি শুরুতেই বলে, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগ নেতারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। এখানে “সাংবাদিকদের মুখোমুখি” এক ধরনের বৈধতা তৈরি করে। কারণ সংবাদে কারো বক্তব্য “সাংবাদিকদের মুখোমুখি” হলে তা প্রথাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। এরপর বলা হয়, দিল্লির সাংবাদিকদের সঙ্গে এই কথোপকথনের আয়োজন করেছিল “ফরেন করেস্পডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া (এফসিসি)”। এই প্রতিষ্ঠানগত প্রেক্ষাপট খুব গুরুত্বপূর্ণ। CDA–র ভাষায় এটি authorization। একটি প্রতিষ্ঠানের মঞ্চ কাউকে “শোনা উচিত” এমন এক actor বানায়। এফসিসি–র মতো নাম, “সেমিনার”, “লাইভ সম্প্রচার”—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যকে “আন্তর্জাতিক নজরদারির যোগ্য” এবং “প্রতিষ্ঠানসমর্থিত” আকারে হাজির করে।

সেমিনারের শিরোনাম ছিল “সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ”। এই শব্দগুলো নৈতিক ফ্রেম তৈরি করে। নৈতিক ফ্রেম মানে moral evaluation। এখানে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি “গণতন্ত্র বাঁচাও” ভাষার ভেতরে ঢুকে যায়। ফলে আওয়ামী লীগ টেক্সটে শুধু “নিষিদ্ধ দল” থাকে না। তারা হয়ে ওঠে “গণতন্ত্র রক্ষার” ভাষায় কথা বলা পক্ষ। তারপর টেক্সটে বলা হয়, ওই সেমিনারে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়। এখানে “অডিও”ও একটি ডিসকোর্স–ইঙ্গিত। কারণ টেক্সট আবার বলে, শেখ হাসিনা নিয়মিত ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলীয় সভায় যোগ দেন। কিন্তু সবই অডিও। ভিডিও নয়। এই তথ্য একদিকে রহস্য তৈরি করে। অন্যদিকে তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখে। “কেন ভিডিও নয়?”—এই প্রশ্ন পাঠকের মনে তৈরি হয়। ফলে তার উপস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।

তারপর আসে আওয়ামী লীগের “পাঁচ দফা দাবি”। প্রতিবেদনে এটিকে “আশু কর্তব্য” হিসেবে উল্লেখের কথা বলা হয়। পাঁচ দফার মধ্যে সবচেয়ে জোরালোভাবে আসে জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ করে “নিরপেক্ষ তদন্ত”–এর দাবি। এবং তাদের ভাষায় “খাঁটি সত্যটা” জানার কথা। এখানে “নিরপেক্ষ তদন্ত” এবং “খাঁটি সত্য” দুটো শক্তিশালী শব্দ। এগুলো presupposition তৈরি করে। অর্থাৎ টেক্সটের ভেতরে এমন ধারণা বসে যায় যে, সত্য এখনো “খাঁটি”ভাবে বের হয়নি। এবং পূর্বের সত্য–দাবিগুলো “অসম্পূর্ণ” বা “স্বার্থপর প্রতিশোধস্পৃহাপূর্ণ” হতে পারে। এই শব্দগুলো আওয়ামী লীগের দাবিকে যুক্তিসঙ্গত ও নৈতিকভাবে উচ্চতর করে তোলে। তারা যেন “প্রতিশোধ নয়, সত্য” চায়। এখানে rationalization কাজ করে। যুক্তি দিয়ে বৈধতা তৈরি হয়।

প্রতিবেদনটি আওয়ামী লীগের দাবিগুলোর তালিকা দেয়। তালিকায় আসে “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন”, “মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি”, “সংখ্যালঘু”, “বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী”, এবং “সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ”—এসব বিষয়। বলা হয় এগুলো “বিশ্বের নজরে” আনার জন্য তারা তুলে ধরেছে। লক্ষ্য করুন, এগুলো সবই অত্যন্ত নৈতিক ও মানবাধিকার–ধর্মী বিষয়। ফলে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের আবরণ হয়ে দাঁড়ায় “জননিরাপত্তা” ও “গণতন্ত্র”। এতে দলটির রাজনৈতিক উপস্থিতি নৈতিকতার রঙে বৈধ হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদনটি এই সেমিনারে কে কে ছিলেন সেটাও নির্দিষ্ট করে বলে। “প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল” সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। “প্রাক্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত” ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এই নামগুলো দেয়া হয়। নাম–পদবি–পরিচয় দেয়া নিজেই actor empowerment। পাঠকের মনে তারা শুধু “নেতা” নয়। তারা “প্রাক্তন মন্ত্রী”। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্মৃতি তাদের সাথে যুক্ত থাকে। তা-ও আবার “দিল্লি”র মঞ্চে। এতে তারা আবারও রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায়।

এরপর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগে পরপর দুই সপ্তাহে দিল্লিতে এই সংবাদ সম্মেলনগুলোকে “তাৎপর্যপূর্ণ” হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবং বলা হয়, গত দেড় বছরে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এমনকি শেখ হাসিনাও বিবিসি–সহ অনেক ভারতীয় গণমাধ্যমকে ইমেইলে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এই অংশটি খুব কাজের। কারণ এতে পাঠকের মনে আওয়ামী লীগের প্রচার–চ্যানেল হিসেবে ভারতীয় মিডিয়ার ধারাবাহিক উপস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আবার “বিবিসি” শব্দটি এসে যায়। অর্থাৎ বিবিসিও এই যোগাযোগ–পরিসরের একটি অংশ ছিল। এতে আওয়ামী লীগের “মিডিয়া–অ্যাকসেস”কে একটি বৈধ, প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা হিসেবে দেখানো হয়।

প্রথম প্রতিবেদনের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ হলো লাইভ দর্শকসংখ্যার বর্ণনা। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বহু মানুষ লিংকে অপেক্ষা করছিলেন। তারা কমেন্ট করছিলেন যে, দেড় বছর পরে তারা শেখ হাসিনাকে “একবার দেখার আশায় রয়েছেন”। এখানে sympathy cue তৈরি হয়। শেখ হাসিনা রাজনৈতিক নেতা হলেও তাকে “দেখার আশায় থাকা”—এমন ভাষা তাকে মানবিক কৌতূহল ও সহানুভূতির আবহে আনে। তারপর শুরু হয় সংখ্যার সিরিজ। মিনিট কুড়ির মধ্যে দেখা যায় ১৩৮০৯ জন দেখছেন। ৩৩ মিনিটে ৫৪ হাজার। সন্ধ্যা ছয়টা চল্লিশ মিনিটে ৯২৫২৫। এক পর্যায়ে এক লক্ষ ছাড়ায়। এই সংখ্যাগুলো কেবল তথ্য নয়। এগুলো জনপ্রিয়তা দিয়ে বৈধতা তৈরির কৌশল। জনপ্রিয় মানেই গুরুত্বপূর্ণ—এই “কমনসেন্স” টেক্সটের মধ্যে বসে যায়। ফলে পাঠক ভাবতে শেখে, “এত মানুষ দেখছে, মানে এরা প্রাসঙ্গিক।” আর প্রাসঙ্গিক হলেই রাজনৈতিকভাবে “উপেক্ষা করা যায় না”। পরে বলা হয়, অডিও ক্লিপ বাজানোর পরে Q&A চলাকালে দর্শক সংখ্যা নেমে আসে আড়াই হাজারের কাছে। এই তথ্যও দেয়া। কিন্তু ডিসকোর্স–ইফেক্ট তৈরি হয় প্রথম বড় সংখ্যাগুলো দিয়ে। “এক লক্ষ”–এর ইমেজ মাথায় বসে যায়। এটি popular legitimation–এর শক্ত রূপ।

এরপর প্রতিবেদনটি প্রশ্ন তোলে, “কী ঘোষণা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের?” এখানে আবার আওয়ামী লীগের বক্তব্যকে নীতিগত অবস্থান হিসেবে সাজানো হয়। তারা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা মব সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, দলীয় কর্মীদের হত্যা, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে রেফারেন্ডাম আয়োজনের আইনি বৈধতা—এসব তুলে ধরে। এখানে আওয়ামী লীগকে দেখা যায় “বৈধতা–নিরীক্ষক” actor হিসেবে। যেন তারা গণতন্ত্র ও আইনের পাহারাদার। তারা আবার দাবি তোলে জাতিসংঘের নিরপেক্ষ তদন্তের। তারা বলে “ক্ষতে প্রলেপ পড়বে”। এই ধরনের রেটোরিক শত্রুতা নয়, চিকিৎসা–শব্দের ভাষা। এতে তাদের ভাষা নরম হয়। গ্রহণযোগ্য হয়। তারা অন্তর্বর্তী সরকার অপসারণের দাবিও তোলে। রাস্তাঘাটে সহিংসতা বন্ধের আবেদন করে। সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দাবি করে। সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ভয় দেখিয়ে চুপ করানো ও জেলে পাঠানো বন্ধের দাবি তোলে। তালিকার এই “ব্যালান্সড” চেহারা তৈরি হয়। কারণ তারা বলছে, “আমাদের লোক, সাংবাদিক, বিরোধী লোক”—সবাই নির্যাতিত। এতে তারা নিজেদের একা ভুক্তভোগী না বানিয়ে, “সবার নিরাপত্তা”র মুখপাত্র হতে পারে। এটিও বৈধতা তৈরিতে সাহায্য করে।

এরপর আসে “বারবার কেন সংবাদ সম্মেলন দিল্লিতে?” এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়, গত সপ্তাহে দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়াতেও তারা হাজির হয়েছিলেন। সেখানে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছিলেন। বলা হয়, ২০২৪–এর পাঁচই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে ভারতের মাটিতে এটি ছিল প্রথম সংবাদ সম্মেলন। এরপর ১৭ই জানুয়ারির সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইসিএফআর)” ও লন্ডনভিত্তিক একটি ল–ফার্মের কথা আসে। বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছিল, তার জবাবি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইসিএফআর। এই অংশে একটি নতুন ধরনের বৈধতা তৈরি হয়। কারণ জাতিসংঘের রিপোর্টের কথা এলেই টেক্সটের ওজন বাড়ে। আর “জবাবি প্রতিবেদন” বললে আওয়ামী লীগের পক্ষের ন্যারেটিভ ‘রিপোর্ট–সমর্থিত’ মনে হয়। ফলে পাঠকের মনে দাঁড়ায়, “বিতর্ক আছে, তদন্ত দরকার, রিপোর্ট আছে”—এই দৃশ্যপট। এতে আওয়ামী লীগের দাবিগুলো “প্রমাণ–ভাষা”র কাছাকাছি চলে যায়।

প্রতিবেদনটি পরে জানায়, ভারতে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের বক্তব্য পৌঁছাতে ভারতের গণমাধ্যম সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন। আর বিশ্লেষকরা বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়ার খবর বাংলাদেশের বহু মানুষ পড়ে। তাই দিল্লিতে সম্মেলন করলে সহজে বাংলাদেশে পৌঁছায়। এবং এটিকে নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখেন। এখানে “বিশ্লেষকরা বলছেন” বাক্যটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। টেক্সট যেন নিজে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। কিন্তু পাঠককে সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটিই intertextuality–র ক্ষমতা। বিশ্লেষকের কণ্ঠ ব্যবহার করে সংবাদ নিজের ব্যাখ্যাকে প্রাকৃতিক করে তোলে।

এখন দ্বিতীয় প্রতিবেদন। এর শিরোনামই একটি বড় কাজ করে। “আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কীভাবে অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে?” এটি প্রশ্ন। প্রশ্ন হলে তা নিরপেক্ষ শোনায়। কিন্তু প্রশ্নটি “লোডেড প্রশ্ন”। কারণ এটি আগেই ধরে নেয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হলে আওয়ামী লীগ থাকা দরকার। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি মানেই অন্তর্ভুক্তিমূলকতা সংকটে। এই একটি বাক্যেই টেক্সট আওয়ামী লীগকে “অপরিহার্য” actor বানিয়ে দেয়। এটি discursive reinclusion। আইনগতভাবে তারা বাইরে। কিন্তু ডিসকোর্সে তারা ভেতরে।

প্রতিবেদনটি বলে, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ২০১৪ সাল থেকে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে। ২০১৪ ও ২০২৪–এ বিএনপি ও জামায়াত অংশ না নেয়ায় একতরফা নির্বাচন হয়েছে। আর ২০১৮–এর নির্বাচনকে সমালোচকেরা বলে “রাতের ভোট”। এরপর বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনও সব দলের অংশগ্রহণে হচ্ছে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটের কিছু শরিক দল অংশ নিতে পারছে না। কারণ নির্বাহী আদেশে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধনও বাতিল করেছে। এই তথ্যগুলো আইনগত বাস্তবতা। কিন্তু এগুলো লেখার পর টেক্সট এমনভাবে এগোয় যে, আইনগত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি “বিতর্কের কেন্দ্র” হয়ে দাঁড়ায়।

এরপর বলা হয়, এই নির্বাচনে মূলত অংশ নিচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি। বিশেষ করে ২০১৪ ও ২০২৪–এ ভোটে অংশ না নেয়া আওয়ামী লীগ বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত। এখানে “গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি” শব্দবন্ধ একটি নতুন legitimacy pole তৈরি করে। আবার একই সাথে টেক্সট দেখায় যে বিরোধীপক্ষ মনে করে “আওয়ামী লীগ না থাকলেও বিতর্কের কিছু নেই।” অর্থাৎ তারা এই নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক বলে দাবি করছে। কিন্তু শিরোনাম সেই দাবির ঠিক বিপরীত সন্দেহ দিয়ে শুরু করেছিল। ফলে পাঠকের মাথায় দুইটি ফ্রেম থাকে। একদিকে “বিরোধীরা বলছে সমস্যা নেই।” অন্যদিকে “শিরোনাম বলছে, কীভাবে হবে?” দ্বিতীয় ফ্রেমটি অনেক সময় প্রথমটির ওপর ছায়া ফেলে। এভাবেই টেক্সট আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে “সন্দেহ–উৎপাদক” বিষয় বানায়।

প্রতিবেদনটি “দুই জোটের অবস্থান” শিরোনামে জামায়াত ও বিএনপির বক্তব্য আনে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অংশগ্রহণমূলক মানে ভোটারদের অংশগ্রহণ। কোনো বিশেষ দলের নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন আইন, নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক বিধি আছে। আইনের ভিত্তিতে যারা যোগ্য, যারা আইনের মধ্যে থাকবে—তারা নির্বাচন করবে। তিনি বলেন, যোগ্য লোকদের নির্বাচন করতে না দিলেই নির্বাচন অংশগ্রহণহীন হবে। এই বক্তব্য টেক্সটে আছে। এটি দেখায়, জামায়াত দলভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি নয়, আইনভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাখ্যা করছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যার পাশে শিরোনামের “আওয়ামী লীগ ছাড়া” প্রশ্ন বসে থাকে। ফলে আইনভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাখ্যাও পাঠকের কাছে “অসম্পূর্ণ” মনে হতে পারে। কারণ প্রশ্নটি দলকে কেন্দ্রে আনে।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন দেশের নিবন্ধিত সব দলই ভোটে অংশ নিচ্ছে। তাই এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তিনি আরও বলেন, “ইনক্লুসিভ ইলেকশন মানেই হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন।” তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল নয় বলে আখ্যা দেন। বলেন তারা “মাফিয়া গোষ্ঠী”, “গণহত্যা চালিয়েছে”, “জনরায় হয়েছে”। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চায় না। তিনি বলেন, ইনক্লুসিভ মানে যারা এখন রাজনীতিতে রেজিস্ট্রার্ড আছে এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত—তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি আরও বলেন, দুয়েকটা ছোট দল অংশ না নিলে কিছু যায় আসে না। ইনক্লুসিভ চরিত্র থাকবে। গ্রহণযোগ্য হবে। বিশ্বাসযোগ্য হবে। এই বক্তব্যগুলোও টেক্সটে আছে। এগুলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে খুব কঠিন ভাষা। কিন্তু CDA–র জায়গা হলো, কঠিন ভাষা থাকা সত্ত্বেও টেক্সটের মূল কাঠামো আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে “নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্ন” হিসেবে দাঁড় করায়। ফলে আওয়ামী লীগ সমালোচিত হয়, কিন্তু একই সাথে “অপরিহার্য প্রশ্ন” হিসেবে পুনরায় কেন্দ্রে আসে। এটি paradoxical legitimation। নিন্দা থাকলেও কেন্দ্রীয়তা তৈরি হয়।

এরপর প্রতিবেদনটি “জাতীয় পার্টির ভিন্ন অবস্থান” আনে। এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশ “আনকন্ট্রোলড আনচেকড” ইলেকশনের দিকে যাচ্ছে। ভোটের দিনে স্থানীয় মব, স্থানীয় শক্তি, যারা হোল্ড রাখে—তারা যা চাইবে তাই হবে। তিনি বলেন, বাধা দেয়ার মতো শক্তি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এই বল্গাহীন ভোটের বিকল্প আরও অনেক কিছু হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি জামায়াত নিষিদ্ধের সময়ও প্রতিবাদ করেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সময়ও প্রতিবাদ করেছে। তারপর তিনি একটি বড় বাক্য বলেন। তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক সমাধান দেয়নি। আবার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা বিএনপি-জামায়াতকেও কোনো রাজনৈতিক সমাধান দিল না। তিনি “ফুল ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন”–এর কথা বলেন। বলেন, ইনক্লুসিভ ভোট ছাড়া পূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর হবে না। তিনি বলেন, এবারের ভোট একটি ট্রানজিশন, একটি “সেমি ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন”। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগেরও ট্রানজিশন প্রয়োজন। সকলেরই শিফট প্রয়োজন। ভোট না হলে বর্তমান সরকার দেশ চালাতে পারবে না। এই বক্তব্যগুলো টেক্সটে বড় জায়গা পায়। এখানে ভয়ের ন্যারেটিভ তৈরি হয়। “লোকাল মব”, “আনচেকড”, “বল্গাহীন”—এসব শব্দ ভয় তৈরি করে। আর ভয় তৈরি হলে পাঠক স্বাভাবিকভাবে ভাবতে শেখে “স্থিতিশীলতা দরকার।” সেই স্থিতিশীলতার ধারনায় আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি আবার একটি বড় “ঝুঁকি” হিসেবে হাজির হতে পারে। ফলে জাতীয় পার্টির উদ্বেগ–ভাষা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে ভাবার জায়গা তৈরি করে। এটিই discursive reinclusion–এর আরেক রূপ।

এরপর প্রতিবেদনটি নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের বিশ্লেষণ আনে। তিনি বলেন, প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক মানে সকল রাজনৈতিক দল মতের অংশগ্রহণ। সেটা এবার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি বলেন, সামনে হয়তো পরের নির্বাচনে হতে পারে যদি আওয়ামী লীগ পুনর্বিবেচনা করে, পর্যালোচনা করে, বিচারগুলো হয়ে যায়, তারপর আওয়ামী লীগ একভাবে আসতে পারে। তিনি বলেন, এখন আংশিকভাবেই নির্বাচন করতে হবে। তারপরেও নির্বাচন কতটা ঠিকঠাক হয় সেটাও উদ্বেগের বিষয়। এই উদ্ধৃতি খুব স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের সম্ভাব্য actor হিসেবে দাঁড় করায়। “বিচারগুলো হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ আসতে পারে”—এই বাক্য আওয়ামী লীগকে “চিরস্থায়ীভাবে বাতিল” পক্ষ হিসেবে নয়, বরং “শর্তসাপেক্ষে ফেরার” সম্ভাব্য পক্ষ হিসেবে দেখায়। এটি এক ধরনের legitimation by conditional pathway। অর্থাৎ তারা “অচিন্ত্যনীয়” নয়। তারা “সম্ভাব্য”। আর সংবাদে “সম্ভাব্য” মানেই “বাস্তব রাজনৈতিক actor”।

এরপর প্রতিবেদনটি “ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব” অংশে আসে। এখানে বলা হয়, অতীতের বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ—এই দুই দলেরই ভোটার সবচেয়ে বেশি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের সমর্থক ভোটাররা রয়েছেন। তাদের ভোট জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই বাক্যগুলো আওয়ামী লীগকে kingmaker বানায়। কারণ ভোট আছে। সমর্থক আছে। প্রভাব আছে। তারপর বলা হয়, আওয়ামী লীগ তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। সেটি ভোটার উপস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে—এ নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন আছে। বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, নতুন ভোটাররা মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে উন্মুখ। কেউ তাদের থামাতে পারবে না। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র অংশ ভোট দিতে না চাইলে সেটা তাদের স্বাধীনতা। কিন্তু তাদের সংখ্যা বেশি হবে না। জামায়াত জোটও মনে করে ভোটার উপস্থিতি সমস্যা হবে না। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ কী অবস্থান নেয় সেটিই প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ অলটুগেদার ভোট বর্জন করে, তাহলে কাস্টিং অবৈধভাবে করতে হবে। এবং সেটাকে লুকানো যাবে না। তিনি বলেন, ৪২ হাজার সেন্টারে ভোট হবে। অবৈধ কাস্টিং একসময় ন্যাকেড হয়ে যাবে। ভোট প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসুক—সবাই তা চায়। কী করলে আসবে—সে জন্য সমঝোতা দরকার। এই অংশে টেক্সট আবার আওয়ামী লীগের ভোটারকে কেন্দ্রে আনে। আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোটারকে ছাড়া নির্বাচন “স্বাভাবিক” হবে না—এমন ধারণা তৈরি হয়। এখানেই বৈধতা উৎপাদন সবচেয়ে কার্যকর হয়। কারণ দল নিষিদ্ধ হলেও তাদের ভোটার “জাতীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা”।

প্রতিবেদনটি পরে বলে, বিশ্লেষকেরা মনে করেন ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পড়লে প্রশ্ন উঠতে পারে। আনু মুহাম্মদ বলেন, ফিফটি পার্সেন্টের বেশি ভোট না হলে গ্রহণযোগ্য হয় না। এতদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে—আরও বেশি হওয়ার কথা। যদি না হয়, ব্যর্থতা হবে। তিনি বলেন, এটি নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন কতটা আস্থা তৈরি করতে পারে, অন্তর্বর্তী সরকার কতটা আন্তরিকভাবে নির্বাচনে যায়, তারা পক্ষপাতিত্ব করছে না—এটা স্পষ্ট করতে হবে। নির্বাচন কমিশনেরও পরীক্ষা। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে দুইটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এক, ভোটার উপস্থিতি। দুই, নিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ। তিনি বলেন, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হয় যাতে তারা ভোট দিতে না যায়। তাদের যাওয়া বা না যাওয়া—দুই দিক থেকেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সেটি নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা আসে। কারণ তারা বড় অংশ। তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক আছে। তিনি বলেন, মাজার আক্রান্ত হচ্ছে, বাউলরা আক্রান্ত হচ্ছে—এদের সাথে বিশাল জনগোষ্ঠী। যদি তারা দেখে সহিংসতায় পড়তে পারে, বা দাপটের সাথে চলাফেরা করা পক্ষ তাদের ওপর আক্রমণ করতে পারে, তবে ভোটসংখ্যা কমে যাবে। এই অংশগুলো নির্বাচনকে একটি “আতঙ্ক–পরিবেশ” হিসেবে দেখায়। আর এই আতঙ্ক–পরিবেশে “বড় ভোটব্যাংক” আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও বর্জন–ডাক টার্নআউটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে—এই ধারণা শক্ত হয়। ফলে আওয়ামী লীগ আবারও “মাপকাঠির ভেতরে” ঢুকে পড়ে।

এখন এই দুই প্রতিবেদন মিলিয়ে বৈধতা উৎপাদনের বড় প্যাটার্নটি বোঝা যায়। প্রথম প্রতিবেদন আওয়ামী লীগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে “প্রতিষ্ঠানগত” বৈধতা দেয়। এফসিসি, সেমিনার, সাংবাদিক, লাইভ সম্প্রচার—এসব দিয়ে তাদের বক্তব্যকে স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ করে। “সেভ ডেমোক্রেসি” শিরোনাম তাদের উপস্থিতিকে নৈতিক উচ্চতায় তোলে। “জাতিসংঘ”, “নিরপেক্ষ তদন্ত”, “খাঁটি সত্য” শব্দগুলো তাদের দাবিকে যুক্তি ও সত্য–অনুসন্ধানের ভাষায় সাজায়। লাইভ দর্শকসংখ্যার বিশাল সিরিজ তাদের জনপ্রিয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা নির্মাণ করে। “একবার দেখার আশায়”—এই বাক্য মানবিক সহানুভূতি তৈরি করে। আবার “বিশ্লেষকরা বলছেন” দিয়ে সংবাদ নিজের ব্যাখ্যাকে নিরাপদ করে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি আরও সূক্ষ্ম। এটি প্রশ্নের কাঠামো দিয়ে শুরু করে। “আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে?” প্রশ্নটি আওয়ামী লীগকে শর্তের ভেতরে ঢোকায়। তারপর বিএনপি-জামায়াতের বক্তব্য দেখালেও শিরোনামের প্রশ্নটি তাদের ব্যাখ্যার ওপর সন্দেহের ছায়া ফেলে। জাতীয় পার্টির উদ্বেগ–বর্ণনা “নিয়ন্ত্রণহীনতা” ও “মব”–ভাষা দিয়ে ভয়ের ন্যারেটিভ গড়ে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মন্তব্য আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ফেরার “শর্তসাপেক্ষ পথ” তৈরি করে। আর ভোটার উপস্থিতি আলোচনায় আওয়ামী লীগকে electoral kingmaker বানানো হয়। কারণ বলা হয়, আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোটার আছে। তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বর্জন–ডাক টার্নআউটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। ৫০%–এর থ্রেশহোল্ড আলোচনা টার্নআউটকে বৈধতার মানদণ্ড বানায়। আর টার্নআউটের কেন্দ্রে এনে বসায় আওয়ামী লীগের ভোটারকে। ফলে দল নিষিদ্ধ হলেও ডিসকোর্সে দলটি “অপরিহার্য বাস্তবতা” হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পুনর্গঠন সরাসরি প্রশংসা দিয়ে হয় না। এটি হয় ফ্রেমিং দিয়ে। হয় প্রশ্ন দিয়ে। হয় প্রতিষ্ঠান ও উৎস–চয়ন দিয়ে। হয় সংখ্যা দিয়ে। হয় নৈতিক শব্দ দিয়ে। হয় “সত্য”–এর ভাষা দিয়ে। হয় “ভোটার উপস্থিতি”–কে বৈধতার কেন্দ্র বানিয়ে। ফলে পাঠক ধীরে ধীরে ভাবতে শেখে—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, কিন্তু তারা রাজনীতির বাইরে নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত, কিন্তু তারা জনমনোযোগের বাইরে নয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই, কিন্তু নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলকতা তাদের অনুপস্থিতিতে প্রশ্নে পড়ে। এইভাবেই টেক্সট–দুটি মিলিয়ে একটি ডিসকোর্স তৈরি হয়। ডিসকোর্সটি বলছে: আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কল্পনা করা কঠিন। আর এই “কঠিন”–বোধই বৈধতা উৎপাদনের সবচেয়ে বড় ফল।

]]>
https://mediadiscourse.online/2025-bangladesh/feed/ 0
২০২৫ সালে বাংলাদেশ: সবচেয়ে প্রভাবশালী দশ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-4/ https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-4/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:41:41 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=76 শেষ ২০২৫ সাল। সময় এসেছে বছরজুড়ে সবচেয়ে প্রভাব যারা রেখেছেন, তাদের স্মরণ করার। গত বছরের মতোই, এবারের তালিকার সবাই যে সেরা বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। কিংবা তাদের প্রভাব সবক্ষেত্রে ইতিবাচক বা ফলপ্রসূ, এমন দাবিও করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন এগোচ্ছে একটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের দিকে। এমন সময়ে যারা ২০২৫ সালকে গড়ে দিয়েছেন তাদের মধ্য দিয়েই ফিরে দেখা যাক বিদায়ী বছরটিকে।

দশ: নারী সংস্কার কমিশন ও নারী মৈত্রী যাত্রা

বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তাই আশা ছিল যে, এবার নারীরা তাদের ন্যায্য স্বীকৃতি পাবেন। কিন্তু তার বদলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিসর থেকে নারীদের সরিয়ে ফেলা ও সামাজিক পর্যায়েও তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা হতে দেখা গেল। প্রকাশ্য নারী-বিদ্বেষের জনসমুদ্রে সরকার যখন তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলো, তখন নারী সংস্কার কমিশন মর্যাদা ও ক্রোধের সঙ্গে এই অপমান সহ্য করেছে। দেশে নারীদের যে নিপীড়িত অবস্থান, তার বিপরীতে দৃঢ়তা উদযাপনের এক অভূতপূর্ব নজির রাখেন তারা। ১৬ মে নারীরা দলে দলে জড়ো হয়ে মৈত্রী যাত্রায় অংশ নেন। সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার রাজপথ শান্তিপূর্ণভাবে দখল করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপেক্ষায় শূন্য পড়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরে যখন এই সমাবেশ থিতু হয়, তখন তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়, যেন বর্তমান সরকারের মত তারা নারীদের প্রত্যাশা ভঙ্গ না করেন।

নয়: মাহেরিন চৌধুরী

“ওরাও তো আমার সন্তান। ওরা পুড়ছে। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি?” ২১ জুলাই মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর, যখন তার স্বামী তাকে সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করছিলেন, তখন মাহেরিন চৌধুরী এ কথাগুলো তাকে বলেছিলেন। বিদ্যালয়টিতে তখন আগুনে জ্বলছিল, আর সেই আগুনের দিকেই এগিয়ে গেলেন এই শিক্ষক। একাধিক প্রাণ বাঁচান তিনি। নিশ্চিত করেন মৃতদের তালিকায় তার শিক্ষার্থীদের নাম যেন আর না বাড়ে। তা করতে গিয়ে ২৩ জুলাই সেই অতিদীর্ঘ তালিকায় নিজেরও নাম লেখান মাহেরিন। শহিদগাথাকে রোমান্টিকতার মোড়কে পেঁচিয়ে রাখতে অভ্যস্ত এই দেশে, তার এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগ আমাদের মানবিকতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আট: হামজা চৌধুরী

ব্রিটিশরা পুরো বিশ্বজুড়ে লুটতরাজ চালাতে চালাতে ছড়িয়ে দিতে থাকে ফুটবল নামে খেলাটি। পরবর্তীতে দেখা গেলো, গোটা বিশ্বই তাদেরকে বলে লাথি মারার এই খেলায় দেদারসে হারাতে থাকে। যদিও তখনো তারা তাদের লুটের সম্পদ ফেরত দিতে নারাজ। তবে এবার ইংল্যান্ড যেন তাদের এক শ্রেষ্ঠ সম্পদ – এফএ কাপজয়ী, প্রিমিয়ার লিগে অভিজ্ঞ, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা এক ফুটবলারকে ফিরিয়ে দিল তার নিজের দেশে। যদি হামজা চৌধুরীকে গণ্য করা হয় ক্রীড়াজগতের পার্থেনন ভাস্কর্য হিসেবে, তবে তার সুখকর সমাপ্তির কারণ হবে যে, তিনি নিজের মাতৃভূমির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি গণমানুষের এই খেলাটিকে আবার বাংলার জনমানসে জাগিয়ে তুলেছেন এবং পুরো বিশ্বে বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।

সাত: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের পুরনো হর্তাকর্তাদের অনেকের গায়ে এখনও কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কালিমা লেগে রয়েছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সেই কালিমা মুছে ফেলতে পেরেছেন। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা না করে যোগ্য ব্যক্তিকে দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দিলে কী হতে পারে, তার উদাহরণ রেখে তিনি এমন এক অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণ করেছেন, যে সরকার নিজেই শিল্প-সংস্কৃতির ওপর হামলাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। তারই সহকর্মীরা যখন বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি তখন বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ শাসনামলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রামাণ্য তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সংরক্ষণ করেছেন।

ছয়: গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন

গত বছর তালিকার চার নম্বরে থাকা গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সদস্যরা আজও এ দেশের সবচেয়ে সাহসী মানুষদের মধ্যে কয়েকজন। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই, র‍্যাব ও পুলিশের দ্বারা সংঘটিত সবচেয়ে অমানবিক কর্মকাণ্ডগুলো নিখুঁত ও জীবন্ত বিবরণে নথিবদ্ধ করে চলেছেন। ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক বাধা ও রাজনৈতিক চাপ আসার পরেও; দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ের সদস্যরা তাদের অনুসন্ধানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া সত্ত্বেও, এই কমিটি জবাবদিহিতা আদায়ের সংগ্রাম কিছুতেই থামায়নি।

পাঁচ: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) দীর্ঘদিন ধরেই তার চিফ প্রসিকিউটরের ব্যক্তিগত জমিদারি ও রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগ আমলের ত্রুটিপূর্ণ ও ভীষণভাবে দলীয়করণের শিকার আইসিটির কড়া সমালোচনায় মুখর ছিলেন তৎকালীন আসামীপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। অথচ, ইউনুস সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কৌঁসুলি হয়ে আজ তিনি সেই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিশোধপরায়ণ দমনক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার শিখেছেন। দেশের সংস্কারহীন ও লাগামহীন এই অবস্থায়, আইসিটির যে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার বিকৃত করার গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে, সেটাই তিনি বজায় রেখে চলেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আইসিটির চোরাগলিতে তাজুল ইসলামের এই কূটচালগুলোর কারণেই আজ আওয়ামী লীগের কিছু অভিযোগ দাঁড় করানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে যেগুলোকে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়।

চার: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

শুরু থেকেই ইউনূস যে সংস্কারের কথা বলে আসছিলেন, সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গর্বিত পুরুষেরা বছরের বেশির ভাগ সময়ই হোঁচট খেতে খেতে এগিয়েছেন। লক্ষ্যসীমা, লক্ষ্য, এবং পদ-পদবি, সবই তারা বদলেছেন। অবশেষে তারা একটি আধাখেঁচড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, একটি গণভোট হবে। সেই গণভোটের প্রক্রিয়া বা তাৎপর্য অবশ্য কারোরই বোধগম্য হচ্ছে না। যেসব বিষয়ে তাদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ছিল— বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, নারী, সংখ্যালঘু, সেসব বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব ঠিক তাদের ব্যর্থতার মতই জ্বলজ্বল করে চোখে পড়ে। অবশ্য এখনো তারা দমে যাননি। সদর্পে তারা বাংলাদেশের ওপর নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার নতুন নতুন কৌশল তৈরি করে চলেছেন।

তিন: তারেক রহমান ও তার দুই সহযোদ্ধা

বাংলাদেশে তারেক রহমানের সুপরিকল্পিত, বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন বিএনপির পালে হাওয়া জুগিয়েছে তো বটেই; তবে এর প্রভাব মূলত আগের ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতাকেই অনুসরণ করে। গত বছর তালিকার সাত নম্বরে থাকা তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেবুসহ যখন লন্ডনের স্টাডি রুমের কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছিলেন, তখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মাহদি আমিন। সুসংহত থাকার বিশেষ নজির এই দলটির ইতিহাসে না থাকা সত্ত্বেও, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দলটিকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আদর্শিকভাবে শূন্যে ভাসমান দলটিকে স্পষ্টতই উদারনীতির দিকে টেনে এনেছে। ঐকমত্য আলোচনায় ও নির্বাচনের দীর্ঘ অপেক্ষায় তারা যে কৌশল ও ধৈর্য দেখিয়েছে, তাতে সম্ভাবনার আভাস আছে। পুরোনো চর্চায় ফিরে না গিয়ে সেই সম্ভাবনা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ও সুস্থ ধারার জন্ম হবে কি না।

দুই: শরিফ ওসমান হাদি

১২ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এক উদীয়মান রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী। অকালেই থেমে যায় এক সম্ভাবনাময় জীবনের স্পন্দন। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন শক্তি, উদ্দীপনা ও স্পষ্টভাষিতায় ভরপুর এক নবীন, যার ছিল মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা এবং নিজের মতাদর্শের পক্ষে লড়াই করার স্পৃহা। তার হত্যাকাণ্ড তাকে জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তাকে রক্ষা করার ব্যর্থতা ঢাকতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে শহীদ হিসেবে মহিমান্বিত করেছে। এর ফলে হাদির প্রচারিত মুসলিম জাতীয়তাবাদ আরও সংহত হয়েছে। রাজনৈতিক দক্ষিণপন্থীদের জন্য একটি পাটাতনও তৈরি হয়েছে। ভারত নিয়ে হাদির নিজস্ব সোচ্চার অবস্থান থাকায় এবং হাদির সন্দেহভাজন খুনিরা ভারতে পালিয়ে যেতে পারায় বাংলাদেশ-জুড়ে ভারতবিরোধী মনোভাব আগুনের ফুলকি থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

]]>
https://mediadiscourse.online/%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ab-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%af-4/feed/ 0
Why is country music booming in Brazil? https://mediadiscourse.online/why-is-country-music-booming-in-brazil-3/ https://mediadiscourse.online/why-is-country-music-booming-in-brazil-3/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:41:41 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=75 Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!The band was still tuning up when the first screams pealed through the crowded fairgrounds in Cuiabá, a regional capital in Brazil’s farm belt. A few feet from the stage, a 10-year-old girl in a spangled black cowboy hat, sequined jeans, and embroidered leather boots added hers to the mix, her cheeks wet with happy tears. Her eyes were locked on Ana Castela, the reigning star of Brazilian country music, as she owned the main stage at the Expoagro. “She is incredible, wonderful,” the young girl gushed afterward. “She’s perfect.”

Castela, a 22-year-old velvet-voiced pop diva with a Latin Grammy in her saddlebag and 15.4 million monthly listeners on Spotify, is the latest idol from Brazil’s homegrown style of music called sertanejo. The folk music began in the sertão,the country’s hardscrabble backlands, but has since modernized, electrified, and taken over the charts with everything from torch songs to subgenres like agronejo, with its odes to Big Agriculture. (As one hit song’s lyrics go: Hey, hey, hey, spraying poison from the plane.) Today the most popular sound in Brazilian music exalts a saddles-and-pickups spirit buoyed by the conversion of forests, prairies, and savannas into commodity crops, livestock ranches, and a trade surplus.

Twin-sister sertanejo duo Maiara & Maraisa (first image) was just one of the genre’s iconic acts headlining the fair across its 10 days. Fans, including Emilly Narciso Rodrigues (last image), came decked out.

“Half of the music consumed in Brazil today is sertanejo. The other half is everything else,” said former president of Sony Music Brasil Paulo Junqueiro, who helped oversee the explosion of country music. “So we are talking about a genre that represents half the output of all new artists.” No rodeo or farm expo (and there are hundreds across Brazil every year) is complete without a lineup of sertanejo artists crooning to stadium-size crowds.

]]>
https://mediadiscourse.online/why-is-country-music-booming-in-brazil-3/feed/ 0
On the cricket field, Bangladesh and India’s ‘war minus the shooting’ https://mediadiscourse.online/on-the-cricket-field-bangladesh-and-indias-war-minus-the-shooting-3/ https://mediadiscourse.online/on-the-cricket-field-bangladesh-and-indias-war-minus-the-shooting-3/#respond Fri, 30 Jan 2026 14:41:41 +0000 https://mediadiscourse.online/?p=74 There are many false aphorisms in circulation around the world. But one of them is so untrue that it borders on the ridiculous. It goes like this: don’t mix politics with sport. Those who believe this strange, sanitised idea of “depoliticisation” conveniently forget one basic truth: international sport is politics. Not just politics, some would argue, but the modern substitute for war itself. For thousands of years, nations fought to conquer territory and assert superiority. Today, that same instinct is merely restrained and redirected onto the playing field. The hunter’s urge to annihilate the opponent has not disappeared; it has been domesticated. In an age where outright war is less frequent, states compensate through sport.

That is why George Orwell famously described international sport as “war minus the shooting”. Borrowing that phrase, American sportswriter Mike Marqusee wrote an entire book under the same title, examining how the 1996 Cricket World Cup in the Indian subcontinent was shaped by politics, diplomacy, and power — and how it, in turn, reshaped politics across South Asia and the wider cricketing world.

Exactly thirty years later, on the eve of yet another World Cup in South Asia, cricket diplomacy is once again heating up. This time, the flashpoint is between two neighbours: Bangladesh and India. Like Marqusee once did, we can use this moment to look beyond cricket — at regional power, bilateral relations, and the larger political currents shaping both countries.

The immediate trigger was Bangladeshi cricketer Mustafizur Rahman. Despite being bought by Kolkata Knight Riders (KKR) for over nine crore rupees, the franchise was forced to release him for safety following intervention by the Indian cricket board. The explanation offered was blunt: under the current circumstances, Mustafizur could not be allowed to play. The real reason soon became clear. A senior leader from India’s ruling Hindu nationalist BJP had openly threatened action against KKR if Mustafizur played in the Indian Premier League. He went further, branding KKR’s owner, Bollywood superstar Shah Rukh Khan, a “traitor” and even threatening to expel him from the country.

That detail matters. Shah Rukh Khan, despite being India’s biggest star, is Muslim. So is Mustafizur. Under BJP rule, India has seen people lynched over something as trivial as allegedly storing beef in a fridge, and many Muslims beaten to death on mere suspicion of being Bangladeshi. Non-Hindus live under constant insecurity. A toxic mix of communal hatred and vigilante violence has become routine.

Yet the same BJP now claims that, following the fall of Sheikh Hasina’s long authoritarian rule in 2024, Bangladesh has become a site of systematic persecution of Hindus. Indian media outlets have gone into overdrive, spreading outright misinformation and alleging genocide. Much like Pakistan, Bangladesh is being cast as a hostile “other”, a convenient external enemy to fuel domestic Hindu nationalist sentiment.

It would be dishonest to deny that Bangladesh has been unstable for the past year and a half. An ineffectual interim government has failed to prevent mob attacks, including the destruction of shrines. Some non-Muslims have indeed been targeted due to political vendettas or property disputes. But this is not remotely comparable to the state-sponsored, industrial-scale production of communal hatred seen in India today.

Still, the BJP government — which itself shelters the deposed autocrat Sheikh Hasina — appears determined to inflame tensions. Visas for Bangladeshis were tightened immediately after her fall. Diplomatic engagement has cooled. Under Modi, India’s relations with almost every South Asian neighbour — bar the Taliban — have deteriorated. In cricket too, India behaves like an unchallenged hegemon. As the biggest financial contributor to the sport, it acts with impunity. That mix of money, arrogance, and aggressive diplomacy now dictates the politics of global cricket.

The Mustafizur episode fits squarely into this pattern. What India failed to anticipate was retaliation. For Bangladesh, this incident came just weeks before India is due to host the T20 World Cup. Dhaka asked a simple, devastating question: if India cannot guarantee the safety of one Bangladeshi cricketer, how can it ensure the security of an entire team — not to mention journalists and thousands of travelling fans? Bangladesh pointed out that special arrangements had once been made for Pakistan in Sri Lanka. Either the same guarantees would apply — or Bangladesh would not play.

Such standoffs are not unprecedented. Australia and the West Indies refused to play in Sri Lanka in 1996. England skipped Zimbabwe in 2003; New Zealand avoided Kenya. Zimbabwe withdrew from the 2009 T20 World Cup. Australia refused to send its Under-19 team to Bangladesh in 2016 — even though its football team had visited shortly before. The contrast revealed the difference between FIFA and the ICC: corrupt as FIFA may be, it can still take firm positions. The ICC, by contrast, is largely spineless. Its “big three” model consistently privileges India, England, and Australia. Pakistan is shunted into absurd hybrid tournaments at India’s insistence and it was still forced to play the 2023 World Cup in India.

What makes this time different is that the Indian government visibly folded before extremist threats. In the early 1990s, Shiv Sena goons vandalised pitches ahead of Pakistan tours. India itself has received threats abroad. Such noise is not new. What is new is the state’s willingness to concede. That sends a dangerous signal — and leaves Bangladesh no room to take risks.

India likely assumed Bangladesh would never boycott a World Cup. Had it foreseen this response, the Mustafizur issue might have been deferred until after the tournament. The IPL, after all, begins later. But politics is rarely that simple. Assembly elections are approaching in West Bengal. For the BJP, long absent from power there, anti-Bangladesh rhetoric combined with cricket and religion is an irresistible electoral weapon.

]]>
https://mediadiscourse.online/on-the-cricket-field-bangladesh-and-indias-war-minus-the-shooting-3/feed/ 0