২৪ জানুয়ারি ২০২৬–এর বিবিসি বাংলার এই দুইটি প্রতিবেদন একসাথে পড়লে একটি বড় ডিসকোর্স–চিত্র স্পষ্ট হয়। টেক্সট দুটির ভাষা, কাঠামো, উৎস–চয়ন, প্রশ্ন–পদ্ধতি, এবং তথ্য সাজানোর ধরন এমনভাবে কাজ করে যে, নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে “অপরিহার্য” ও “বৈধ” এক পক্ষ হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়। এখানে আমি “বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে দলীয় এজেন্ডা চালায়”—এমন উদ্দেশ্য–অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে ধরছি না। আমি দেখাচ্ছি, টেক্সটের ভেতরে কোন কোন ভাষিক কৌশল কাজ করছে। আর সেই কৌশলগুলোর ফল কী দাঁড়াচ্ছে। এটিই ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্স অ্যানালিসিস (CDA)–এর মূল কাজ। CDA মনে করে সংবাদ–ভাষা শুধু ঘটনা বলে না। সংবাদ–ভাষা ঘটনা “কীভাবে বুঝতে হবে”—সেটাও শিখিয়ে দেয়। কারা বৈধ actor, কোন সমস্যাকে বড় করা হবে, কোন সমাধান “যৌক্তিক” শোনাবে—এসবও সংবাদ নির্মাণ করে।

প্রথম প্রতিবেদনটির শিরোনামই একটি শক্ত ফ্রেম তৈরি করে। “দিল্লিতে আবারও প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা”—এখানে “আবারও” শব্দটি পুনরাগমনের ইঙ্গিত দেয়। “প্রকাশ্যে” শব্দটি নরমালাইজিং কাজ করে। যেন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রকাশ্যে আসা স্বাভাবিক রাজনৈতিক ঘটনাই। এরপর শিরোনামেই “বাজানো হলো শেখ হাসিনার অডিও বার্তা” বলা হয়। অর্থাৎ টেক্সটের কেন্দ্রবিন্দুতে শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতাচ্যুত। তবুও ন্যারেটিভ–ফোকাস তার দিকে। এতে পাঠকের মনে তিনি “পেছনের চরিত্র” নন। বরং তিনি “এখনও দৃশ্যপটে থাকা” প্রধান রাজনৈতিক চরিত্র।
প্রতিবেদনটি শুরুতেই বলে, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগ নেতারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। এখানে “সাংবাদিকদের মুখোমুখি” এক ধরনের বৈধতা তৈরি করে। কারণ সংবাদে কারো বক্তব্য “সাংবাদিকদের মুখোমুখি” হলে তা প্রথাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। এরপর বলা হয়, দিল্লির সাংবাদিকদের সঙ্গে এই কথোপকথনের আয়োজন করেছিল “ফরেন করেস্পডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া (এফসিসি)”। এই প্রতিষ্ঠানগত প্রেক্ষাপট খুব গুরুত্বপূর্ণ। CDA–র ভাষায় এটি authorization। একটি প্রতিষ্ঠানের মঞ্চ কাউকে “শোনা উচিত” এমন এক actor বানায়। এফসিসি–র মতো নাম, “সেমিনার”, “লাইভ সম্প্রচার”—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যকে “আন্তর্জাতিক নজরদারির যোগ্য” এবং “প্রতিষ্ঠানসমর্থিত” আকারে হাজির করে।
সেমিনারের শিরোনাম ছিল “সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ”। এই শব্দগুলো নৈতিক ফ্রেম তৈরি করে। নৈতিক ফ্রেম মানে moral evaluation। এখানে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি “গণতন্ত্র বাঁচাও” ভাষার ভেতরে ঢুকে যায়। ফলে আওয়ামী লীগ টেক্সটে শুধু “নিষিদ্ধ দল” থাকে না। তারা হয়ে ওঠে “গণতন্ত্র রক্ষার” ভাষায় কথা বলা পক্ষ। তারপর টেক্সটে বলা হয়, ওই সেমিনারে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়। এখানে “অডিও”ও একটি ডিসকোর্স–ইঙ্গিত। কারণ টেক্সট আবার বলে, শেখ হাসিনা নিয়মিত ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলীয় সভায় যোগ দেন। কিন্তু সবই অডিও। ভিডিও নয়। এই তথ্য একদিকে রহস্য তৈরি করে। অন্যদিকে তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখে। “কেন ভিডিও নয়?”—এই প্রশ্ন পাঠকের মনে তৈরি হয়। ফলে তার উপস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।
তারপর আসে আওয়ামী লীগের “পাঁচ দফা দাবি”। প্রতিবেদনে এটিকে “আশু কর্তব্য” হিসেবে উল্লেখের কথা বলা হয়। পাঁচ দফার মধ্যে সবচেয়ে জোরালোভাবে আসে জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ করে “নিরপেক্ষ তদন্ত”–এর দাবি। এবং তাদের ভাষায় “খাঁটি সত্যটা” জানার কথা। এখানে “নিরপেক্ষ তদন্ত” এবং “খাঁটি সত্য” দুটো শক্তিশালী শব্দ। এগুলো presupposition তৈরি করে। অর্থাৎ টেক্সটের ভেতরে এমন ধারণা বসে যায় যে, সত্য এখনো “খাঁটি”ভাবে বের হয়নি। এবং পূর্বের সত্য–দাবিগুলো “অসম্পূর্ণ” বা “স্বার্থপর প্রতিশোধস্পৃহাপূর্ণ” হতে পারে। এই শব্দগুলো আওয়ামী লীগের দাবিকে যুক্তিসঙ্গত ও নৈতিকভাবে উচ্চতর করে তোলে। তারা যেন “প্রতিশোধ নয়, সত্য” চায়। এখানে rationalization কাজ করে। যুক্তি দিয়ে বৈধতা তৈরি হয়।
প্রতিবেদনটি আওয়ামী লীগের দাবিগুলোর তালিকা দেয়। তালিকায় আসে “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন”, “মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি”, “সংখ্যালঘু”, “বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী”, এবং “সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ”—এসব বিষয়। বলা হয় এগুলো “বিশ্বের নজরে” আনার জন্য তারা তুলে ধরেছে। লক্ষ্য করুন, এগুলো সবই অত্যন্ত নৈতিক ও মানবাধিকার–ধর্মী বিষয়। ফলে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের আবরণ হয়ে দাঁড়ায় “জননিরাপত্তা” ও “গণতন্ত্র”। এতে দলটির রাজনৈতিক উপস্থিতি নৈতিকতার রঙে বৈধ হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনটি এই সেমিনারে কে কে ছিলেন সেটাও নির্দিষ্ট করে বলে। “প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল” সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। “প্রাক্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত” ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এই নামগুলো দেয়া হয়। নাম–পদবি–পরিচয় দেয়া নিজেই actor empowerment। পাঠকের মনে তারা শুধু “নেতা” নয়। তারা “প্রাক্তন মন্ত্রী”। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্মৃতি তাদের সাথে যুক্ত থাকে। তা-ও আবার “দিল্লি”র মঞ্চে। এতে তারা আবারও রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায়।
এরপর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগে পরপর দুই সপ্তাহে দিল্লিতে এই সংবাদ সম্মেলনগুলোকে “তাৎপর্যপূর্ণ” হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবং বলা হয়, গত দেড় বছরে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এমনকি শেখ হাসিনাও বিবিসি–সহ অনেক ভারতীয় গণমাধ্যমকে ইমেইলে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এই অংশটি খুব কাজের। কারণ এতে পাঠকের মনে আওয়ামী লীগের প্রচার–চ্যানেল হিসেবে ভারতীয় মিডিয়ার ধারাবাহিক উপস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আবার “বিবিসি” শব্দটি এসে যায়। অর্থাৎ বিবিসিও এই যোগাযোগ–পরিসরের একটি অংশ ছিল। এতে আওয়ামী লীগের “মিডিয়া–অ্যাকসেস”কে একটি বৈধ, প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা হিসেবে দেখানো হয়।
প্রথম প্রতিবেদনের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ হলো লাইভ দর্শকসংখ্যার বর্ণনা। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বহু মানুষ লিংকে অপেক্ষা করছিলেন। তারা কমেন্ট করছিলেন যে, দেড় বছর পরে তারা শেখ হাসিনাকে “একবার দেখার আশায় রয়েছেন”। এখানে sympathy cue তৈরি হয়। শেখ হাসিনা রাজনৈতিক নেতা হলেও তাকে “দেখার আশায় থাকা”—এমন ভাষা তাকে মানবিক কৌতূহল ও সহানুভূতির আবহে আনে। তারপর শুরু হয় সংখ্যার সিরিজ। মিনিট কুড়ির মধ্যে দেখা যায় ১৩৮০৯ জন দেখছেন। ৩৩ মিনিটে ৫৪ হাজার। সন্ধ্যা ছয়টা চল্লিশ মিনিটে ৯২৫২৫। এক পর্যায়ে এক লক্ষ ছাড়ায়। এই সংখ্যাগুলো কেবল তথ্য নয়। এগুলো জনপ্রিয়তা দিয়ে বৈধতা তৈরির কৌশল। জনপ্রিয় মানেই গুরুত্বপূর্ণ—এই “কমনসেন্স” টেক্সটের মধ্যে বসে যায়। ফলে পাঠক ভাবতে শেখে, “এত মানুষ দেখছে, মানে এরা প্রাসঙ্গিক।” আর প্রাসঙ্গিক হলেই রাজনৈতিকভাবে “উপেক্ষা করা যায় না”। পরে বলা হয়, অডিও ক্লিপ বাজানোর পরে Q&A চলাকালে দর্শক সংখ্যা নেমে আসে আড়াই হাজারের কাছে। এই তথ্যও দেয়া। কিন্তু ডিসকোর্স–ইফেক্ট তৈরি হয় প্রথম বড় সংখ্যাগুলো দিয়ে। “এক লক্ষ”–এর ইমেজ মাথায় বসে যায়। এটি popular legitimation–এর শক্ত রূপ।
এরপর প্রতিবেদনটি প্রশ্ন তোলে, “কী ঘোষণা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের?” এখানে আবার আওয়ামী লীগের বক্তব্যকে নীতিগত অবস্থান হিসেবে সাজানো হয়। তারা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা মব সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, দলীয় কর্মীদের হত্যা, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে রেফারেন্ডাম আয়োজনের আইনি বৈধতা—এসব তুলে ধরে। এখানে আওয়ামী লীগকে দেখা যায় “বৈধতা–নিরীক্ষক” actor হিসেবে। যেন তারা গণতন্ত্র ও আইনের পাহারাদার। তারা আবার দাবি তোলে জাতিসংঘের নিরপেক্ষ তদন্তের। তারা বলে “ক্ষতে প্রলেপ পড়বে”। এই ধরনের রেটোরিক শত্রুতা নয়, চিকিৎসা–শব্দের ভাষা। এতে তাদের ভাষা নরম হয়। গ্রহণযোগ্য হয়। তারা অন্তর্বর্তী সরকার অপসারণের দাবিও তোলে। রাস্তাঘাটে সহিংসতা বন্ধের আবেদন করে। সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দাবি করে। সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ভয় দেখিয়ে চুপ করানো ও জেলে পাঠানো বন্ধের দাবি তোলে। তালিকার এই “ব্যালান্সড” চেহারা তৈরি হয়। কারণ তারা বলছে, “আমাদের লোক, সাংবাদিক, বিরোধী লোক”—সবাই নির্যাতিত। এতে তারা নিজেদের একা ভুক্তভোগী না বানিয়ে, “সবার নিরাপত্তা”র মুখপাত্র হতে পারে। এটিও বৈধতা তৈরিতে সাহায্য করে।
এরপর আসে “বারবার কেন সংবাদ সম্মেলন দিল্লিতে?” এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়, গত সপ্তাহে দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়াতেও তারা হাজির হয়েছিলেন। সেখানে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছিলেন। বলা হয়, ২০২৪–এর পাঁচই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে ভারতের মাটিতে এটি ছিল প্রথম সংবাদ সম্মেলন। এরপর ১৭ই জানুয়ারির সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইসিএফআর)” ও লন্ডনভিত্তিক একটি ল–ফার্মের কথা আসে। বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছিল, তার জবাবি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইসিএফআর। এই অংশে একটি নতুন ধরনের বৈধতা তৈরি হয়। কারণ জাতিসংঘের রিপোর্টের কথা এলেই টেক্সটের ওজন বাড়ে। আর “জবাবি প্রতিবেদন” বললে আওয়ামী লীগের পক্ষের ন্যারেটিভ ‘রিপোর্ট–সমর্থিত’ মনে হয়। ফলে পাঠকের মনে দাঁড়ায়, “বিতর্ক আছে, তদন্ত দরকার, রিপোর্ট আছে”—এই দৃশ্যপট। এতে আওয়ামী লীগের দাবিগুলো “প্রমাণ–ভাষা”র কাছাকাছি চলে যায়।
প্রতিবেদনটি পরে জানায়, ভারতে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের বক্তব্য পৌঁছাতে ভারতের গণমাধ্যম সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন। আর বিশ্লেষকরা বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়ার খবর বাংলাদেশের বহু মানুষ পড়ে। তাই দিল্লিতে সম্মেলন করলে সহজে বাংলাদেশে পৌঁছায়। এবং এটিকে নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখেন। এখানে “বিশ্লেষকরা বলছেন” বাক্যটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। টেক্সট যেন নিজে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। কিন্তু পাঠককে সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটিই intertextuality–র ক্ষমতা। বিশ্লেষকের কণ্ঠ ব্যবহার করে সংবাদ নিজের ব্যাখ্যাকে প্রাকৃতিক করে তোলে।
এখন দ্বিতীয় প্রতিবেদন। এর শিরোনামই একটি বড় কাজ করে। “আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কীভাবে অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে?” এটি প্রশ্ন। প্রশ্ন হলে তা নিরপেক্ষ শোনায়। কিন্তু প্রশ্নটি “লোডেড প্রশ্ন”। কারণ এটি আগেই ধরে নেয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হলে আওয়ামী লীগ থাকা দরকার। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি মানেই অন্তর্ভুক্তিমূলকতা সংকটে। এই একটি বাক্যেই টেক্সট আওয়ামী লীগকে “অপরিহার্য” actor বানিয়ে দেয়। এটি discursive reinclusion। আইনগতভাবে তারা বাইরে। কিন্তু ডিসকোর্সে তারা ভেতরে।
প্রতিবেদনটি বলে, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ২০১৪ সাল থেকে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে। ২০১৪ ও ২০২৪–এ বিএনপি ও জামায়াত অংশ না নেয়ায় একতরফা নির্বাচন হয়েছে। আর ২০১৮–এর নির্বাচনকে সমালোচকেরা বলে “রাতের ভোট”। এরপর বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনও সব দলের অংশগ্রহণে হচ্ছে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটের কিছু শরিক দল অংশ নিতে পারছে না। কারণ নির্বাহী আদেশে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধনও বাতিল করেছে। এই তথ্যগুলো আইনগত বাস্তবতা। কিন্তু এগুলো লেখার পর টেক্সট এমনভাবে এগোয় যে, আইনগত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি “বিতর্কের কেন্দ্র” হয়ে দাঁড়ায়।

এরপর বলা হয়, এই নির্বাচনে মূলত অংশ নিচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি। বিশেষ করে ২০১৪ ও ২০২৪–এ ভোটে অংশ না নেয়া আওয়ামী লীগ বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত। এখানে “গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি” শব্দবন্ধ একটি নতুন legitimacy pole তৈরি করে। আবার একই সাথে টেক্সট দেখায় যে বিরোধীপক্ষ মনে করে “আওয়ামী লীগ না থাকলেও বিতর্কের কিছু নেই।” অর্থাৎ তারা এই নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক বলে দাবি করছে। কিন্তু শিরোনাম সেই দাবির ঠিক বিপরীত সন্দেহ দিয়ে শুরু করেছিল। ফলে পাঠকের মাথায় দুইটি ফ্রেম থাকে। একদিকে “বিরোধীরা বলছে সমস্যা নেই।” অন্যদিকে “শিরোনাম বলছে, কীভাবে হবে?” দ্বিতীয় ফ্রেমটি অনেক সময় প্রথমটির ওপর ছায়া ফেলে। এভাবেই টেক্সট আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে “সন্দেহ–উৎপাদক” বিষয় বানায়।
প্রতিবেদনটি “দুই জোটের অবস্থান” শিরোনামে জামায়াত ও বিএনপির বক্তব্য আনে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অংশগ্রহণমূলক মানে ভোটারদের অংশগ্রহণ। কোনো বিশেষ দলের নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন আইন, নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক বিধি আছে। আইনের ভিত্তিতে যারা যোগ্য, যারা আইনের মধ্যে থাকবে—তারা নির্বাচন করবে। তিনি বলেন, যোগ্য লোকদের নির্বাচন করতে না দিলেই নির্বাচন অংশগ্রহণহীন হবে। এই বক্তব্য টেক্সটে আছে। এটি দেখায়, জামায়াত দলভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি নয়, আইনভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাখ্যা করছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যার পাশে শিরোনামের “আওয়ামী লীগ ছাড়া” প্রশ্ন বসে থাকে। ফলে আইনভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাখ্যাও পাঠকের কাছে “অসম্পূর্ণ” মনে হতে পারে। কারণ প্রশ্নটি দলকে কেন্দ্রে আনে।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন দেশের নিবন্ধিত সব দলই ভোটে অংশ নিচ্ছে। তাই এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তিনি আরও বলেন, “ইনক্লুসিভ ইলেকশন মানেই হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন।” তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল নয় বলে আখ্যা দেন। বলেন তারা “মাফিয়া গোষ্ঠী”, “গণহত্যা চালিয়েছে”, “জনরায় হয়েছে”। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চায় না। তিনি বলেন, ইনক্লুসিভ মানে যারা এখন রাজনীতিতে রেজিস্ট্রার্ড আছে এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত—তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি আরও বলেন, দুয়েকটা ছোট দল অংশ না নিলে কিছু যায় আসে না। ইনক্লুসিভ চরিত্র থাকবে। গ্রহণযোগ্য হবে। বিশ্বাসযোগ্য হবে। এই বক্তব্যগুলোও টেক্সটে আছে। এগুলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে খুব কঠিন ভাষা। কিন্তু CDA–র জায়গা হলো, কঠিন ভাষা থাকা সত্ত্বেও টেক্সটের মূল কাঠামো আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে “নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্ন” হিসেবে দাঁড় করায়। ফলে আওয়ামী লীগ সমালোচিত হয়, কিন্তু একই সাথে “অপরিহার্য প্রশ্ন” হিসেবে পুনরায় কেন্দ্রে আসে। এটি paradoxical legitimation। নিন্দা থাকলেও কেন্দ্রীয়তা তৈরি হয়।
এরপর প্রতিবেদনটি “জাতীয় পার্টির ভিন্ন অবস্থান” আনে। এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশ “আনকন্ট্রোলড আনচেকড” ইলেকশনের দিকে যাচ্ছে। ভোটের দিনে স্থানীয় মব, স্থানীয় শক্তি, যারা হোল্ড রাখে—তারা যা চাইবে তাই হবে। তিনি বলেন, বাধা দেয়ার মতো শক্তি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এই বল্গাহীন ভোটের বিকল্প আরও অনেক কিছু হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি জামায়াত নিষিদ্ধের সময়ও প্রতিবাদ করেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সময়ও প্রতিবাদ করেছে। তারপর তিনি একটি বড় বাক্য বলেন। তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক সমাধান দেয়নি। আবার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা বিএনপি-জামায়াতকেও কোনো রাজনৈতিক সমাধান দিল না। তিনি “ফুল ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন”–এর কথা বলেন। বলেন, ইনক্লুসিভ ভোট ছাড়া পূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর হবে না। তিনি বলেন, এবারের ভোট একটি ট্রানজিশন, একটি “সেমি ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন”। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগেরও ট্রানজিশন প্রয়োজন। সকলেরই শিফট প্রয়োজন। ভোট না হলে বর্তমান সরকার দেশ চালাতে পারবে না। এই বক্তব্যগুলো টেক্সটে বড় জায়গা পায়। এখানে ভয়ের ন্যারেটিভ তৈরি হয়। “লোকাল মব”, “আনচেকড”, “বল্গাহীন”—এসব শব্দ ভয় তৈরি করে। আর ভয় তৈরি হলে পাঠক স্বাভাবিকভাবে ভাবতে শেখে “স্থিতিশীলতা দরকার।” সেই স্থিতিশীলতার ধারনায় আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি আবার একটি বড় “ঝুঁকি” হিসেবে হাজির হতে পারে। ফলে জাতীয় পার্টির উদ্বেগ–ভাষা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে ভাবার জায়গা তৈরি করে। এটিই discursive reinclusion–এর আরেক রূপ।
এরপর প্রতিবেদনটি নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের বিশ্লেষণ আনে। তিনি বলেন, প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক মানে সকল রাজনৈতিক দল মতের অংশগ্রহণ। সেটা এবার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি বলেন, সামনে হয়তো পরের নির্বাচনে হতে পারে যদি আওয়ামী লীগ পুনর্বিবেচনা করে, পর্যালোচনা করে, বিচারগুলো হয়ে যায়, তারপর আওয়ামী লীগ একভাবে আসতে পারে। তিনি বলেন, এখন আংশিকভাবেই নির্বাচন করতে হবে। তারপরেও নির্বাচন কতটা ঠিকঠাক হয় সেটাও উদ্বেগের বিষয়। এই উদ্ধৃতি খুব স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের সম্ভাব্য actor হিসেবে দাঁড় করায়। “বিচারগুলো হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ আসতে পারে”—এই বাক্য আওয়ামী লীগকে “চিরস্থায়ীভাবে বাতিল” পক্ষ হিসেবে নয়, বরং “শর্তসাপেক্ষে ফেরার” সম্ভাব্য পক্ষ হিসেবে দেখায়। এটি এক ধরনের legitimation by conditional pathway। অর্থাৎ তারা “অচিন্ত্যনীয়” নয়। তারা “সম্ভাব্য”। আর সংবাদে “সম্ভাব্য” মানেই “বাস্তব রাজনৈতিক actor”।
এরপর প্রতিবেদনটি “ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব” অংশে আসে। এখানে বলা হয়, অতীতের বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ—এই দুই দলেরই ভোটার সবচেয়ে বেশি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের সমর্থক ভোটাররা রয়েছেন। তাদের ভোট জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই বাক্যগুলো আওয়ামী লীগকে kingmaker বানায়। কারণ ভোট আছে। সমর্থক আছে। প্রভাব আছে। তারপর বলা হয়, আওয়ামী লীগ তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। সেটি ভোটার উপস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে—এ নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন আছে। বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, নতুন ভোটাররা মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে উন্মুখ। কেউ তাদের থামাতে পারবে না। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র অংশ ভোট দিতে না চাইলে সেটা তাদের স্বাধীনতা। কিন্তু তাদের সংখ্যা বেশি হবে না। জামায়াত জোটও মনে করে ভোটার উপস্থিতি সমস্যা হবে না। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ কী অবস্থান নেয় সেটিই প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ অলটুগেদার ভোট বর্জন করে, তাহলে কাস্টিং অবৈধভাবে করতে হবে। এবং সেটাকে লুকানো যাবে না। তিনি বলেন, ৪২ হাজার সেন্টারে ভোট হবে। অবৈধ কাস্টিং একসময় ন্যাকেড হয়ে যাবে। ভোট প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসুক—সবাই তা চায়। কী করলে আসবে—সে জন্য সমঝোতা দরকার। এই অংশে টেক্সট আবার আওয়ামী লীগের ভোটারকে কেন্দ্রে আনে। আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোটারকে ছাড়া নির্বাচন “স্বাভাবিক” হবে না—এমন ধারণা তৈরি হয়। এখানেই বৈধতা উৎপাদন সবচেয়ে কার্যকর হয়। কারণ দল নিষিদ্ধ হলেও তাদের ভোটার “জাতীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা”।
প্রতিবেদনটি পরে বলে, বিশ্লেষকেরা মনে করেন ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পড়লে প্রশ্ন উঠতে পারে। আনু মুহাম্মদ বলেন, ফিফটি পার্সেন্টের বেশি ভোট না হলে গ্রহণযোগ্য হয় না। এতদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে—আরও বেশি হওয়ার কথা। যদি না হয়, ব্যর্থতা হবে। তিনি বলেন, এটি নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন কতটা আস্থা তৈরি করতে পারে, অন্তর্বর্তী সরকার কতটা আন্তরিকভাবে নির্বাচনে যায়, তারা পক্ষপাতিত্ব করছে না—এটা স্পষ্ট করতে হবে। নির্বাচন কমিশনেরও পরীক্ষা। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে দুইটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এক, ভোটার উপস্থিতি। দুই, নিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ। তিনি বলেন, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হয় যাতে তারা ভোট দিতে না যায়। তাদের যাওয়া বা না যাওয়া—দুই দিক থেকেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সেটি নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা আসে। কারণ তারা বড় অংশ। তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক আছে। তিনি বলেন, মাজার আক্রান্ত হচ্ছে, বাউলরা আক্রান্ত হচ্ছে—এদের সাথে বিশাল জনগোষ্ঠী। যদি তারা দেখে সহিংসতায় পড়তে পারে, বা দাপটের সাথে চলাফেরা করা পক্ষ তাদের ওপর আক্রমণ করতে পারে, তবে ভোটসংখ্যা কমে যাবে। এই অংশগুলো নির্বাচনকে একটি “আতঙ্ক–পরিবেশ” হিসেবে দেখায়। আর এই আতঙ্ক–পরিবেশে “বড় ভোটব্যাংক” আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও বর্জন–ডাক টার্নআউটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে—এই ধারণা শক্ত হয়। ফলে আওয়ামী লীগ আবারও “মাপকাঠির ভেতরে” ঢুকে পড়ে।
এখন এই দুই প্রতিবেদন মিলিয়ে বৈধতা উৎপাদনের বড় প্যাটার্নটি বোঝা যায়। প্রথম প্রতিবেদন আওয়ামী লীগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে “প্রতিষ্ঠানগত” বৈধতা দেয়। এফসিসি, সেমিনার, সাংবাদিক, লাইভ সম্প্রচার—এসব দিয়ে তাদের বক্তব্যকে স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ করে। “সেভ ডেমোক্রেসি” শিরোনাম তাদের উপস্থিতিকে নৈতিক উচ্চতায় তোলে। “জাতিসংঘ”, “নিরপেক্ষ তদন্ত”, “খাঁটি সত্য” শব্দগুলো তাদের দাবিকে যুক্তি ও সত্য–অনুসন্ধানের ভাষায় সাজায়। লাইভ দর্শকসংখ্যার বিশাল সিরিজ তাদের জনপ্রিয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা নির্মাণ করে। “একবার দেখার আশায়”—এই বাক্য মানবিক সহানুভূতি তৈরি করে। আবার “বিশ্লেষকরা বলছেন” দিয়ে সংবাদ নিজের ব্যাখ্যাকে নিরাপদ করে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি আরও সূক্ষ্ম। এটি প্রশ্নের কাঠামো দিয়ে শুরু করে। “আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে?” প্রশ্নটি আওয়ামী লীগকে শর্তের ভেতরে ঢোকায়। তারপর বিএনপি-জামায়াতের বক্তব্য দেখালেও শিরোনামের প্রশ্নটি তাদের ব্যাখ্যার ওপর সন্দেহের ছায়া ফেলে। জাতীয় পার্টির উদ্বেগ–বর্ণনা “নিয়ন্ত্রণহীনতা” ও “মব”–ভাষা দিয়ে ভয়ের ন্যারেটিভ গড়ে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মন্তব্য আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ফেরার “শর্তসাপেক্ষ পথ” তৈরি করে। আর ভোটার উপস্থিতি আলোচনায় আওয়ামী লীগকে electoral kingmaker বানানো হয়। কারণ বলা হয়, আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোটার আছে। তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বর্জন–ডাক টার্নআউটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। ৫০%–এর থ্রেশহোল্ড আলোচনা টার্নআউটকে বৈধতার মানদণ্ড বানায়। আর টার্নআউটের কেন্দ্রে এনে বসায় আওয়ামী লীগের ভোটারকে। ফলে দল নিষিদ্ধ হলেও ডিসকোর্সে দলটি “অপরিহার্য বাস্তবতা” হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পুনর্গঠন সরাসরি প্রশংসা দিয়ে হয় না। এটি হয় ফ্রেমিং দিয়ে। হয় প্রশ্ন দিয়ে। হয় প্রতিষ্ঠান ও উৎস–চয়ন দিয়ে। হয় সংখ্যা দিয়ে। হয় নৈতিক শব্দ দিয়ে। হয় “সত্য”–এর ভাষা দিয়ে। হয় “ভোটার উপস্থিতি”–কে বৈধতার কেন্দ্র বানিয়ে। ফলে পাঠক ধীরে ধীরে ভাবতে শেখে—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, কিন্তু তারা রাজনীতির বাইরে নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত, কিন্তু তারা জনমনোযোগের বাইরে নয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই, কিন্তু নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলকতা তাদের অনুপস্থিতিতে প্রশ্নে পড়ে। এইভাবেই টেক্সট–দুটি মিলিয়ে একটি ডিসকোর্স তৈরি হয়। ডিসকোর্সটি বলছে: আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কল্পনা করা কঠিন। আর এই “কঠিন”–বোধই বৈধতা উৎপাদনের সবচেয়ে বড় ফল।


